হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ। ছবি: রয়টার্স।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থমকে রয়েছে ভারতের ৩৭টি জাহাজ। ইরান হরমুজ় প্রণালী ‘বন্ধ’ করে রাখায় অন্য বহু জাহাজের সঙ্গে সমস্যায় পড়েছে এই জাহাজগুলিও। পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং সংলগ্ন সমুদ্রে আটকে রয়েছে এই জাহাজগুলি। ভারতের পতাকাবাহী ওই জাহাজগুলিতে এক হাজারেরও বেশি নাবিক এবং নৌকর্মী রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এগুলির মধ্যে কিছু জাহাজে করে জ্বালানি তেল এবং লিকুইড নাইট্রোজেন গ্যাস (এলএনজি) ভারতীয় বন্দরগুলিতে আসছে। আবার কিছু জাহাজ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে পেট্রোপণ্য আনতে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছে এই জাহাজগুলি। আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও। কেন্দ্রীয় সরকার যাতে এই সমস্যা কাটাতে হস্তক্ষেপ করে, সেই আর্জিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে জাহাজ মালিকদের ওই সংগঠন জানাচ্ছে, দেশের চাহিদা পূরণ করার জন্যই প্রায় ৩৭টি ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছে। কিন্তু জাহাজগুলি ইতিমধ্যে পণ্যবোঝাই হয়ে গিয়েছে। কিছু পণ্যবোঝাইয়ের জন্য যাচ্ছে। বিবৃতিতে তারা লিখেছে, “হরমুজ় প্রণালীর উভয় পাশেই এই জাহাজগুলি রয়েছে। এই জাহাজগুলি যাতে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।”
পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারতের জাহাজ চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংও। জাহাজ সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে তারা। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে বিদেশি জাহাজে অন্তত তিন ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন এক জন। জানা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত সাহায্য করার জন্য ইতিমধ্যে একটি কুইক রেসপন্স টিমও গঠন করছে জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক।
বুধবারই ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’ দাবি করেছে, তারা হরমুজ় প্রণালী ‘সম্পূর্ণ দখল’ করে নিয়েছে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মাথায় হাত পড়েছে বিশ্বের অনেক দেশের। বর্তমানে হরমুজ় প্রণালীর দু’দিকে আটকে রয়েছে শ’য়ে শ’য়ে জাহাজ। না-এগোতে পারছে, না-পিছোতে! ইরানের জারি করা বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্তব্ধ। সেই ভিড়ে ভারতের মতো রয়েছে মার্কিন জাহাজও।