ঈশান কিশন। ছবি: পিটিআই।
রাজস্থান রয়্যালসকে হারানোর পর আইপিএলের প্রতিপক্ষ দলগুলিকে সতর্কবার্তা ঈশান কিশনের। সাতটি ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যাটারের দাবি, এখনও নিজের সেরা ক্রিকেট খেলেননি। দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চান ঈশান।
রাজস্থানের বিরুদ্ধে ১১টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৩১ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন ঈশান। ম্যাচের পর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এটাই কি আইপিএলে আপনার সেরা পারফরম্যান্স। উত্তরে ঈশান বলেছেন, ‘‘না, আমার মনে হয় আমার সেরাটা এখনও আসেনি।’’ এ বারের আইপিএলে ঈশান অন্যতম ধারাবাহিক পারফর্মার। দলকে সামনে থেকে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমন ব্যাট হাতে প্রায় সব ম্যাচে রান করছেন। কী ভাবে এই সাফল্য? ঈশান বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয়, শান্ত থাকাটা জরুরি। দক্ষতা সকলেরই থাকে। মানসিক ভাবে ভাল জায়গায় থাকা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলের উপর নজর রাখা এবং আগে থেকে শট ভেবে না রাখা। এই মাঠটা বড়। বলের উপর নজর রেখে ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল বল, বড় মাঠে কিছু জায়গা পাবই। বড় মাঠ হলে ফাঁক বেশি পাওয়া যায়। মারার মতো বল না পেলেও ওই ফাঁকা জায়গাগুলোয় বল পাঠিয়ে স্কোর বোর্ড সচল রাখা যায়। সেটাই করতে চেয়েছিলাম। ব্যাটিংয়ের জন্য পিচটাও বেশ ভাল ছিল। তাই বেশি কিছু ভাবিনি। শুধু ব্যাটিং উপভোগ করতে চেয়েছিলাম।’’
ধারাবাহিকতা নিয়ে ঈশান বলেছেন, ‘‘যখন খেলছিলাম না, দল থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল, শুধু বসে বসে আক্ষেপ করার কোনও মানে হয় না। হতাশায় ডুবে গিয়ে কোনও লাভ নেই। একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে সহজ অভিযোগ হচ্ছে, ‘যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ হতে পারে এটা সবচেয়ে সহজ পথ। কিন্তু আমি এই পথে বিশ্বাস করি না। একটা বিষয় বুঝে গিয়েছিলাম, দলে ফিরতে হলে আমাকে রান করতে হবে।’’
প্যাট কামিন্স চোটের জন্য খেলতে না পারায় ঈশানকে অস্থায়ী অধিনায়ক করেছেন হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ। এই দায়িত্ব কি উপভোগ করেছেন? না, বাড়তি চাপ মনে হয়েছে? ঈশান বলেছেন, ‘‘সাতটা ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। ব্যাপারটা বেশ মজার ছিল। কামিন্স এসে যাওয়ায় আমাদের বোলিং শক্তি অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। কামিন্স আসায় খুশিই হয়েছি। তা ছাড়া কামিন্স দুর্দান্ত অধিনায়ক। তাই আমি এতদিন অধিনায়কত্বের চেয়ে বেশি ভেবেছি নিজের ব্যাটিং আর কিপিং নিয়ে।’’
এ বারের আইপিএলে সাতটি ম্যাচে হায়দরাবাদকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে চারটি ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন ঈশান। আটটি ম্যাচ খেলে করেছেন ৩১২ রান। তিনটি অর্ধশতরান করেছেন। ঈশানের স্ট্রাইক রেট ১৯৮.৭২।