রঙের মাধ্যমে বোঝানো দেশের কোথায় কোথায় তাপপ্রবাহের কী রকমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছবি: ইসরো।
গরমে পুড়ছে দেশের বেশির ভাগ অংশ। উত্তর-পশ্চিম থেকে উত্তর এবং পূর্ব ভারতে যেন সূর্য ‘মাটিতে’ নেমে এসেছে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে কবে রেহাই মিলবে, এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তার মধ্যে দেশের উত্তর এবং পূর্বের রাজ্যগুলিতে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দু’দিন আগেই উত্তরপ্রদেশে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছে গিয়েছিল। ওই দিন উত্তরপ্রদেশের বন্দীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য দিকে, দিল্লিতেও তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। শুধু দিল্লি কিংবা উত্তরপ্রদেশই নয়, গরমে পুড়ছে পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, রাজস্থান-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী দিনে গরমের মাত্রা আরও বাড়বে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর, পূর্ব এবং মধ্য ভারতে। আগামী সপ্তাহেও দেশের বিস্তীর্ণ অংশে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি জারি থাকবে বলেও চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের। আগামী ২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন মৌসম ভবন। উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের কোনও কোনও শহরে গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৪৫-৪৭ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। পূর্ব ভারতে ৪০-৪৩ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতার অর্থ দু’দিন ধরে টানা এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। কমলা সতর্কতার অর্থ হল, দু’দিন তীব্র তাপপ্রবাহ থাকবে। তার পর আরও চার দিন বা তার বেশি দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলবে। লাল সতর্কতার অর্থ হল, তীব্র তাপপ্রবাহ চলবে দু’দিনের বেশি সময় ধরে।
তবে আবহবিদেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। ফলে রাতেও একটা অস্বস্তিকর এবং হাঁসফাঁস পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দিল্লিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রির আশপাশে ঘুরছে, যা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। দিল্লিতে তাপপ্রবাহের কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবার উত্তরপ্রদেশে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজস্থানেও তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রির আশপাশে ঘুরছে। আগামী কয়েক দিন উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫-৪৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার জন্য ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়েছে মৌসম ভবন।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লিতে ২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। পশ্চিম রাজস্থানে ২৫-২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ জারি থাকবে। পূর্ব রাজস্থানে ২৭ মে, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ২৫ মে, বিহার, তেলঙ্গানায় ২৪ মে, ওড়িশা ২৫ মে এবং ঝাড়খণ্ডে ২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ এবং গরমের দাপট চলবে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ গরমের এক নতুন নজির গড়েছে ভারত। একিউআই ডট ইন-এর লাইভ তাপমাত্রার র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের মধ্যে সব ক’টিই ছিল ভারতের। ওই তালিকায় ছিল নয়াদিল্লি, ফরীদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগরা, অযোধ্যা, গ্বালিয়র, কোটা, রায়পুরের মতো তাপপ্রবাহের জন্য পরিচিত শহরের পাশাপাশি জম্মু এমনকি, উত্তরাখণ্ডে হিমালয়ের কোলের শহর হরিদ্বারও।
তবে মৌসম ভবন জানিয়েছে বিপরীত ছবি দেখা যাবে উত্তর-পূর্ব ভারতে। অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরা এবং মিজ়োরামে আগামী কয়েক দিন ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। কোথাও কোথাও আবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির পাশাপাশি উত্তর ভারত এবং হিমালয় অঞ্চলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সৃষ্টি হচ্ছে। একটি সুবিশাল পশ্চিমি ঝঞ্ঝা উত্তর ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উপগ্রহ চিত্রে সেই ছবি ধরা পড়েছে। ২১ মে-র উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, একটি সুবিশাল মেঘবলয় বিস্তৃত রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম ভারতে। সেই মেঘবলয় ধীরে ধীরে হিমালয় অঞ্চল এবং উত্তর ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
জ্যৈষ্ঠের উত্তাপে হাঁসফাঁস দশা কলকাতায়। বৃষ্টি নেই। দিনে রোদের প্রচণ্ড তাপে রাস্তায় বেরোনো দুষ্কর হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকের মুখে একটাই প্রশ্ন— বৃষ্টি নামবে কবে? আলিপুর আবহাওয়া দফতর এর জবাবে খুব একটা আশার কথা শোনাতে পারছে না। কলকাতায় আপাতত ঝড়বৃষ্টির তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। মাঝেমধ্যে দু’-এক জায়গায় অতি সামান্য কয়েক পশলা বৃষ্টি হলেও হতে পারে। তবে তাতে গরম কমবে না। কলকাতায় আশা না-থাকলেও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা ভিজতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ চলবে উত্তরবঙ্গে। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৯ ডিগ্রি বেশি। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৬ ডিগ্রি বেশি।