(বাঁ দিক থেকে) শরদ পওয়ার, অজিত পওয়ার এবং সুনেত্রা পওয়ার। —ফাইল চিত্র।
এনসিপির দুই গোষ্ঠীকে মিশিয়ে দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন শরদ পওয়ার। শনিবার পওয়ার জানান, তিনি চান যে, প্রয়াত অজিত পওয়ারের ‘শেষ ইচ্ছার’ মর্যাদা দেওয়া হোক। এই সূত্রেই প্রবীণ এই রাজনীতিকের দাবি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এনসিপির দুই গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক ভাবে মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। ভাইপো অজিতের এই ‘ইচ্ছাপূরণের’ ভার অবশ্য এনসিপি নেতৃত্বের হাতেই ছেড়়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, শনিবার দুপুরেই মহারাষ্ট্রের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন অজিত-পত্নী সুনেত্রা পওয়ার। দুই এনসিপির পুনর্মিলনের জল্পনার মধ্যেই সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী মেনে বিজেপি আগাম কৌশলী চাল দিয়ে রাখল বলে মনে করছেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে আপাতত অজিতের এনসিপি-র এনডিএ ত্যাগের সম্ভাবনা রইল না।
শনিবার পওয়ার অবশ্য জানিয়েছেন, সুনেত্রার উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর কথায়, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। তাঁর (সুনেত্রা) দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রফুল পটেল, সুনীল ততাকারের মতো নেতারা আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। আমি এই বিষয়ে (সুনেত্রার উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া) কিছু জানিও না।”
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এনসিপির কয়েকটি সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে যে, ফেব্রুয়ারিতেই ভাইপো অজিতের এনসিপি এবং কাকা শরদের এনসিপি (এসপি)-র পুনর্মিলন হত। কয়েকটি প্রতিবেদনে এ-ও দাবি করা হয় যে, দুই গোষ্ঠী মিশে যাওয়ার পর মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসকজোটে শরদ গোষ্ঠীর যোগদানের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিতের মৃত্যুর পর দুই এনসিপির পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়ে সংশয়ী পওয়ারও। শনিবার তিনি বলেন, “অজিত পওয়ার, শশীকান্ত শিন্দে, জয়ন্ত পাতিল দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন। এমনকি দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। এটা ১২ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা ছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, অজিত তার আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল।” একই সঙ্গে পওয়ারের সংযোজন, “আমার মনে হয়, ওর (অজিত) ইচ্ছাপূরণ করা উচিত।”
কাকা ও ভাইপোর দূরত্বে এনসিপিতে বিভাজন হয়েছিল। এনসিপির প্রতীক পেয়েছিল অজিত শিবিরই। কাকা শরদের দলের নাম হয়েছিল এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার)। গুঞ্জন ওঠে যে, বিজেপির হাত ছাড়িয়ে অজিত বেরিয়ে এসে তাঁর কাকার সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে কাকার হাত ধরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অজিত নিজেই। তবে দুই এনসিপি এক হওয়ার পর অজিত শাসকজোট ছাড়তেন, নাকি শরদ গোষ্ঠী সরকারে অংশগ্রহণ করত, তা স্পষ্ট হয়নি।