Indian Railways

রেলের দেওয়া সাম্মানিক রুপোর পদক বদলে গেল তামায়! হইচই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর দাবি ঘিরে, এফআইআর দায়ের ভোপালে

ওই রেলকর্মীর কথায়, ‘‘আগে সরকারি টাঁকশালে এই রুপোর পদক তৈরি হত। কিন্তু এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মনেই আশঙ্কা জাগবে যে, তাঁরা যে সাম্মানিক পেয়েছেন, সেগুলি ভুয়ো নয় তো?’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৮
Share:

রেলের দেওয়া রুপোর পদক হাতে নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী টিকে গৌতম। ছবি: সংগৃহীত।

ছিল রুপোর পদক। হয়ে গেল তামার। ঠিক যেন ‘রুমাল থেকে বিড়াল’ হওয়ার মতো! অবসরের পর রেলের তরফে সাম্মানিক হিসাবে রুপোর কয়েনের মতো দেখতে পদক দেওয়া হয়েছিল রেলকর্মী টিকে গৌতমকে। পশ্চিম-মধ্য রেলের চিফ লোকো ইনস্পেক্টরের পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি অবসর নেন। তাঁকে সাম্মানিক হিসাবে সোনার জল করা রুপোর পদক দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গৌতম। কিন্তু অভিযোগ, গবেষাণাগারে সেই পদক পরীক্ষা করাতেই দেখা যায়, সেটি রুপোর নয়, তামার। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা হলে কি ‘ভুয়ো’ পদক দেওয়া হচ্ছে? সাম্মানিকের নামে অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে?

Advertisement

এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌতম জানিয়েছেন, এই সাম্মানিক গর্বের। এর সঙ্গে একটা আবেগ জড়িয়ে থাকে রেলকর্মীদের। সারাজীবনের একটা স্মৃতি। তাঁর কথায়, ‘‘আগে সরকারি টাঁকশালে এই রুপোর পদক তৈরি হত। কিন্তু এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মনেই আশঙ্কা জাগবে যে, তাঁরা যে সাম্মানিক পেয়েছেন, সেগুলি ভুয়ো নয় তো?’’

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হসরত জাহান নামে আরও এক রেলকর্মী ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অবসর নেন। ৩৬ বছর রেলের ভোপাল কোচ ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর রেলের দেওয়া সাম্মানিক যত্নসহকারে ঘরে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বলা হয়েছিল এই সাম্মানিক ৯৯ শতাংশ রুপোর। এখন দেখছি রেল নিজেই সেই সাম্মানিককে তামা বলে দাবি করে এফআইআর-ও করেছে। এই পদক আমার চাকরিজীবনের স্মৃতি। এখন মনে হচ্ছে প্রতারিত হয়েছি।’’

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষাণাগারে পরীক্ষার রিপোর্ট বলছে, যেটিকে সোনার জল দেওয়া রুপোর পদক বলে অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীদের সাম্মানিক হিসাবে দেওয়া হচ্ছিল, সেটি সম্পূর্ণ তামার তৈরি। তবে রুপোর পরিমাণ রয়েছে ০.২৩ শতাংশ। এই পদকগুলি ভোপালে পশ্চিম-মধ্য রেলের জেনারেল স্টোর্স ডিপো থেকে দেওয়া হয়েছে। এই পদকের বরাত দেওয়া হয়েছিল ইনদওরের একটি সংস্থাকে। ৩৬৪০টি পদকের জন্য বরাত দেওয়া হয়। তার মধ্যে ৩৬৩১টি পদক সরবরাহ করা হয়। রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনমিক সার্ভিস (রাইসটস)-এর পরীক্ষার পর পদকগুলি ভোপালে পশ্চিম-মধ্য রেলের জেনারেল স্টোর্স ডিপোতে সরবরাহ করা হয়। এক একটি পদকের ওজন ২০ গ্রাম। যার বাজারদর ২০০০- ২২০০ টাকা। কিন্তু যখনই এই পদকের গুণমান নিয়ে সন্দেহ এবং প্রশ্ন ওঠে, রেলের ভিজিল্যান্স দফতর সরকারি এবং এনএবিএল স্বীকৃত গবেষণাগারে তা পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়, পদকগুলি তামার তৈরি। এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করে পশ্চিম-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হর্ষিত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, পরীক্ষার পর জানা গিয়েছে পদক তৈরিতে দুর্নীতি হয়েছে। ভোপালে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement