—প্রতীকী চিত্র।
হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল আগেই। নতুন সরকারের শপথের পরেই আবার অশান্ত হয়ে উঠল মণিপুর। মেইতেই জনগোষ্ঠী প্রভাবিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগদান এবং সমর্থনের ‘অপরাধে’ কুকি-জ়ো জনজাতির পাঁচ বিধায়ককে সামাজিক বয়কটের কথা ঘোষণা করল তাঁদেরই সামাজির সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ।
বৃহস্পতিবার দিনভর পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন কুকি প্রভাবিত এলাকায় বন্ধ, বিক্ষোভ, পথ অবরোধ, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক সরকারি ভবনে হামলা হয়েছে। প্রায় এক বছর পরে বুধবার মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটে। ক্ষমতাসীন বিজেপির নবনির্বাচিত পরিষদীয় নেতা ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যটির ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। মেইতেই জনগোষ্ঠীর নেতা খেমচাঁদের সঙ্গেই রাজ্যপাল অজয়কুমার ভাল্লার কাছে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কুকি এবং নাগা জনজাতি গোষ্ঠীর দুই বিধায়ক— নেমচা কিপগেন এবং বিধায়ক লোসি দিখো। তাঁদের মধ্যে কুকি নেত্রী নেমচা বিজেপির। দিখো বিজেপির সহযোগী দল নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ)-এর বিধায়ক।
গোষ্ঠী হিংসাদীর্ণ কুকি-জ়ো সংগঠনগুলি আগেই তাঁদের জনজাতির কোনও বিধায়ককে নতুন সরকারে শামিল না হওয়া এবং সমর্থন না করার ‘নির্দেশ’ দিয়েছিল। কিন্তু তা মানায় বৃহস্পতিবার নেমচা এবং আরও চার বিধায়ককে বয়কটের ঘোষণা করা হয়। তাঁদের মধ্যে এক জন কুকি-জ়োদের ‘শাখা’ হামর জনজাতির। যৌথমঞ্চ কুকি-জ়ো কাউন্সিল (কেজেডসি)-এর তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘মণিপুরে সরকার গঠনে কিছু কুকি-জ়ো বিধায়কের অংশগ্রহণের তীব্র এবং দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।’’ এর প্রতিবাদে দীর্ঘমেয়াদী বিক্ষোভের ডাকও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা ছড়িয়েছে মণিপুরে।