Stubble Burning

শস্যের গোড়া পোড়ানোর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়: দিল্লির বায়ুদূষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান বিচারপতি দিল্লির কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমাদের কেউই এ ব্যাপারে চুপ থাকতে পারি না। এই সমস্যার কোনও সমাধান নেই, তা হতে পারে না।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৫
Share:

শস্যের গোড়া পোড়ানো নিয়ে সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের। — ফাইল চিত্র।

শস্যের গোড়া পোড়ানোর বিষয়ে রাজনীতির রং লাগানো উচিত নয়। দিল্লিতে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত মামলায় এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, শস্যের গোড়া পোড়ানো কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। কৃষকদের দোষারোপ পরিবর্তে এই বিষয়ে আরও ‘সংবেদনশীল’ হওয়ার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

দিল্লির বাতাসের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রাজধানীর রাস্তায় এ নিয়ে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভও চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কী ভাবে সরকার এই দূষণ রোধ করবে, তা নিয়ে সুপষ্ট ধারণা দেওয়া হোক। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাও চলছে। সোমবারের শুনানিতে এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘দিল্লির দূষণের বিষয়টি নিয়ে প্রতি বছর অক্টোবরে শুনানি করা যায় না। আমরা এটা নিয়মিত শুনব।’’

সোমবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দিল্লির কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমাদের কেউই এ ব্যাপারে চুপ থাকতে পারি না। এই সমস্যার কোনও সমাধান নেই, তা হতে পারে না।’’ আদালত মনে করে, দিল্লির দূষণ নিয়ে সিএকিউএম-এর উচিত তাদের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জানানো। শুধু তা-ই নয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে বা কাজের মূল্যায়নেরও প্রয়োজন।

Advertisement

সিএকিউএম এবং কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আপনারা নিজেদের একটা প্রশ্ন করুন। জানতে চান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর পরিস্থিতির কি উন্নতি হয়েছে?’’ প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘‘পরিকল্পনা যদি কার্যকারী না-হয়, তবে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’’ অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্ষ ভাটি আদালতে জানান, সিএকিউএম এ ব্যাপারে প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। শস্যের গোড়া পোড়ানো, গাড়ির ধোঁয়া নির্গমন, ধুলো ইত্যাদি বিষয় কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনাও করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা শস্যের গোড়া পোড়ানোর বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। দোষ চাপানো খুবই সহজ। কিন্তু প্রতিকার খোঁজা কঠিন। আমরা সব সময়ই সহজ পথই নিই।’’ করোনার সময়কালের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘সেই সময়ই শস্যের গোড়া পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে তখন দূষণ কম ছিল। কেন? তাঁর উত্তর খুজতে হবে।’’ শস্যের গোড়া পোড়ানোর বিষয়ে কৃষকদেরও ‘সংবেদনশীল’ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে আদালত।

বস্তুত, বিভিন্ন রাজ্যে ফসল ঘরে তোলার পরে শস্যের গোড়া পোড়ানোর চল রয়েছে। বিশেষ করে পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের একাংশে এটি বেশি দেখা যায়। ফসল তুলে নেওয়ার পরে পরবর্তী শস্য রোপণের জন্য চাষের খেত পরিষ্কার করার এটি অন্যতম সহজ এবং সস্তা উপায়। তবে শস্যের গোড়া পোড়ানোর জেরে বাতাসের গুণমান খারাপ হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement