(বাঁ দিকে) অজিত পওয়ার এবং সুনেত্রা পওয়ার (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দলনেত্রী নির্বাচনের ঘোষণা হয়েছিল শুক্রবারই। শনিবার এনসিপির তরফে জানানো হল, শনিবারই মহারাষ্ট্রের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন সদ্যপ্রয়াত অজিত পওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা। তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নেতা নির্বাচিত করার জন্য শনিবার সকালেই এনসিপি পরিষদয়ীয় দলে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে যোগ দিতে মুম্বইয়ে পৌঁছে গিয়েছেন এনসিপির বিধায়ক এবং বিধান পরিষদের সদস্যেরা।
মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে সুনেত্রাই হতে চলেছেন প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। ফলে উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নিলে বিধানসভা অথবা বিধান পরিষদের উপনির্বাচনে জিততে হবে। প্রসঙ্গত, বিধানসভার মতোই বিধান পরিষদেও ‘নির্বাচিত’ হতে হয়। কিন্তু সেখানে সাধারণ নাগরিকেরা ভোট দেন না। সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ভোট দেন বিভিন্ন ক্ষেত্রভুক্ত পেশার মানুষ এবং পঞ্চায়েত-পুরসভার মতো স্থানীয় প্রশাসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গেও একটা সময় বিধান পরিষদ ছিল। সাতের দশকে যুক্তফ্রন্টের সরকার ক্ষমতায় এসে তার অবলুপ্তি ঘটায়। সারা ভারতে এখনও ৬টি রাজ্যে বিধান পরিষদ আছে। সেগুলি হল মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং কর্নাটক।
শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসের সরকারি বাসভবন বর্ষায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, প্রফুল পটেল, এবং সুনীল তটকরে। ফডণবীস মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী অজিতের হাতে অর্থ, আবগারি, ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছিল। সূত্রের খবর, সেগুলি চেয়ে দরবার করেছেন প্রফুলেরা। বৈঠকের পরে ছগন বলেন, ‘‘শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনসিপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সুনেত্রা পওয়ারকে দলনেত্রী নির্বাচিত করা হবে।’’ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ছগনের ঘোষণা, অজিতের স্থানে সুনেত্রাই দলের তরফে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীস আমাদের জানিয়েছেন, শনিবার শপথগ্রহণ হলেও তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে কবে শপথ হবে সে বিষয়ে শনিবারই এনসিপি পরিষদীয় দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছিলেন ছগন।
অজিত-জায়া সুনেত্রার ভোট-রাজনীতিতে পদার্পণ মাত্র দেড় বছর আগে। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের সময়। কিন্তু সে বার বারামতী কেন্দ্রে শরদ পওয়ারের কন্যা তথা এনসিপি (শরদ) প্রার্থী সুপ্রিয়া সুলের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। অজিত-পুত্র পার্থ পওয়ারের ভোটে লড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল সুনেত্রার আগেই। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে মভল কেন্দ্রে পরাজয়ের পরে আর সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে পওয়ার পরিবারে অজিতের শূন্যস্থান পূরণ কে করবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শরদ পওয়ারের নেতৃত্বে দুই গোষ্ঠী আবার এক হতে পারেন বলেও রাজনীতির কারবারিদের অনেকে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলাদা অস্তিত্ব বজায় রেখেই সুনেত্রাকে দলনেত্রী মনোনীত করলেন অজিত অনুগামীরা। এর ফলে এনসিপিতে ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ’ প্রফুলের প্রভাব বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।