ছবি: সংগৃহীত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষজ্ঞদের অনেকেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আর তা সঠিক প্রমাণ করে এ বার মায়ানমারে ক্ষমতায় আসতে চলেছে সেনা-সমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)’। পার্লামেন্ট নির্বাচনের গণনার প্রবণতা বলছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল করতে চলেছে তারা।
দেশের বেশ কয়েক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা দলের নেতা। ইউএসডিপি ক্ষমতায় এলে এক প্রকারের সামরিক শাসনই বজায় থাকবে দেশে, মনে করছেন কূটনীতিকেরা। মায়ানমারে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালে। সে বার বিপুল ভোটে জিতেছিলেন নোবেলজয়ী নেত্রী আউং সান সু চি। কিন্তু তার কয়েক মাস পরেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জুন্টা সরকার। সু চি-কে প্রথমে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁকে গ্রেফতার জেলে পাঠানো হয় এ বারের নির্বাচনে সু চি বা তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফল ডেমোক্র্যাসির কা কাউকে অংশ নিতেদেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে এই ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাদের দাবি, এই ভোট সামরিক শাসক তথা জুন্টা সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটা ফন্দি। তবে জুন্টার পাল্টা দাবি, দেশে রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গত বারের থেকে এ বার ভোট পড়েছিল অনেক কম। তবু যাঁরা ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের আশা, গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে স্থিতাবস্থা ফিরবে, নির্বাচিত সরকার এলে অর্থনীতিরও কিছুটা সুরাহা হবে। প্রসঙ্গত, মায়ানমারে এবারের জাতীয় নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয়ে গত সপ্তাহে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এতে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষে ইউএসডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। দলটি নিম্নকক্ষ পিথু হ্লুট্টের ২৬৩টির মধ্যে ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষ অ্যাম্যোথা হ্লুট্টে ১৫৭টির মধ্যে ১০৯টি আসনে জিতেছে তারা।