ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রের নীতি— প্রতিষেধক নেওয়াটা কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কেউ চাইলে প্রতিষেধক না-নিতেও পারেন। তা সত্ত্বেও কোভিড আবহে বেড়াতে গেলে প্রতিষেধক নেওয়ার শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে। অনেক রাজ্যেই ভিন্ রাজ্য থেকে আসাদের জন্য আবশ্যিক করা হয়েছে প্রতিষেধক নেওয়াকে। কিছু ক্ষেত্রে চাকরি বজায় রাখতে কিংবা অত্যাবশ্যক পরিষেবা পাওয়ার শর্ত রাখা হচ্ছে প্রতিষেধক নেওয়ার। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন চিকিৎসক জেকব পুল্লিইয়েল। ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন কমিটির ওই প্রাক্তন সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে, প্রতিষেধক সংস্থাগুলি মানবদেহে যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে এবং প্রাপকদের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কি না, সেই তথ্যও জনসমক্ষে আনার দাবি করেন জেকব।
গোড়া থেকেই কেন্দ্র জানিয়ে এসেছে, প্রতিষেধক নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। জেকব আজ জানিয়েছেন, বর্তমানে এ দেশে কেবলমাত্র জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রতিষেধক দেওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মানবদেহে প্রতিষেধকের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অজানা। মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল কিংবা প্রতিষেধক নেওয়ার পরে প্রাপকদের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে কি না, তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিষেধক নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, বহু ক্ষেত্রে কাজ হারানোর ভয়ে বা আবশ্যক পরিষেবা না-পাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে প্রতিষেধক নিতে জোর করা হচ্ছে। জেকবের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের কথায়, “এই ঘটনায় সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে। কারণ কাউকেই প্রতিষেধক নেওয়ার জন্য জোর খাটানো যায় না। এটা ব্যক্তি পরিসরে হস্তক্ষেপের শামিল।” ভূষণ আজ দাবি জানান, প্রতিষেধক সংস্থাগুলির গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রতিষেধক নেওয়ার পরে কত জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, সেই তথ্যও প্রকাশ্যে আনা হোক।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও ও হৃষীকেশ রায়ের বেঞ্চে ওই মামলাটি উঠলে আদালত কেন্দ্রকে এক মাসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, তারা মামলাটি খতিয়ে দেখবে ঠিকই, কিন্তু মাথায় রাখতে হবে সর্বজনীন টিকাকরণ জরুরি। দুই সদস্যের বেঞ্চ আজ জানিয়েছে, মানুষের মনে প্রতিষেধকের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হোক, তা আদালত চায় না।