WB Assembly Elections 2026

‘এক বারের ভোট নয়, গুরুত্ব বেশি ভোটাধিকােরর’

রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন (‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’) ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র দু’জনের আপিল ট্রাইবুনালে শুনানি হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

‘একটি’ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম না থাকার তুলনায় পরবর্তী নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম থাকা ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে সুপ্রিম কোর্ট।

আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল, সোমবারের শুনানিতে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার দিনক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যদি প্রয়োজন হয়, যথোচিত নির্দেশ জারি করা হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘আমরা যে কাঠামোর মধ্যে ভাবছি, সেটা কী? একটি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় নাম তোলার একটি শেষ দিন রয়েছে। এবং তার মধ্যে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটার তালিকায় থাকা ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকবেশি স্থায়ী।’’

রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন (‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’) ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র দু’জনের আপিল ট্রাইবুনালে শুনানি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ৬ এপ্রিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত (‘ফ্রিজ়’) হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের জন্য ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়েছে ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। সুপ্রিম কোর্টে এর আগেই প্রশ্ন উঠেছে, এই তারিখের পরে এবং ভোটের আগে ‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বাতিল তালিকায় চলে যাওয়া যে সব ভোটার আপিল ট্রাইবুনালে ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন, তাঁদের কী হবে? যাঁদের ট্রাইবুনালে শুনানি ও ফয়সালা ভোটের পরে হবে, তাঁদের কী হবে? তাঁরা কি এ বারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না?

‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বাদ চলে যাওয়া রাজ্যের ১৩ জন নাগরিক আজ এই প্রশ্ন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের হয়ে আইনজীবী রউফ রহিম যুক্তি দিয়েছেন, এঁদের সকলেরই পাসপোর্ট রয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বাদ পড়ে যাওয়া ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের আপিলের বিষয়ে ট্রাইবুনালকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। যাতে মনোনয়নের সময়ের আগেই তাঁর ফয়সালা হয়। সে সময় বিচারপতি বাগচী নির্বাচন কমিশনকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, মহতাব শেখের পাসপোর্ট রয়েছে। ‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বিচারক মহতাবের নাম ভোটার তালিকা থেকে খারিজ করে দিলেও ট্রাইব্যুনাল ভোটার হিসেবে তাঁর যোগ্যতায় সিলমোহর দিয়েছিল। আজ আইনজীবী রউফ রহিম প্রশ্ন তুলেছেন, দু’জন ভোটারের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল সঙ্গে সঙ্গে ছাড়পত্র দিয়েছে। একইভাবে যাঁদের পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও নাম বাতিল হয়েছে, যাঁরা শুনানির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাঁদের কী হবে?

বিচারপতি বাগচী বলেন, ১৩ এপ্রিল শুনানি রয়েছে। সে দিন বিবেচনা করা হবে। রউফ বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু বলছেন, তাঁরা ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। তার পরে আর কারও নাম যোগ হবে না। এখানে ভোটাধিকারের প্রশ্ন উঠছে। বাকিদের ভোটাধিকারের কী হবে? বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘আমরা যে কাঠামোর মধ্যে ভাবছি, সেটা কী? একটি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় নাম তোলার একটি শেষ দিন রয়েছে। এবং, তার মধ্যে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটার তালিকায় থাকা ও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বেশি স্থায়ী।’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘কারও নাম পাকাপাকি ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যায়নি।’’ রউফ বলেন, এখানে সমানাধিকারের প্রশ্ন রয়েছে। দু’জন পাসপোর্ট নিয়ে ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র পেলেন। অথচ তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছিল। এখানে ১৩ জন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ, তাঁদেরও পাসপোর্ট রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘দু’জনের ক্ষেত্রে আপনি সুপ্রিম কোর্টের থেকে ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শুনানির নির্দেশ আদায় করে নিয়েছেন। এখন সকলের ক্ষেত্রে একই নির্দেশ চাইছেন!’’ রউফ বলেন, ‘‘কেউ গায়ের জোরে নির্দেশ আদায় করে নিতে পারে না। আপনারা সচেতন ভাবে বিবেচনা করে নির্দেশ দিয়েছিলেন।” নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু বলেন, নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার দিনক্ষণ চলে গিয়েছে। তারপরে আর কারও নাম ভোটার তালিকায় যোগ করা যায় না। বিচারপতি বাগচী রউফকে বলেন, তিনি ১৩ এপ্রিল এ বিষয়ে সওয়াল করতে পারেন। রউফ সেদিনই রওয়াল করবেন বলে জানানোয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সময় দেওয়া যাবে কি না, কথা দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, প্রতি দিন এ নিয়ে নতুন নতুন মামলা দায়ের হচ্ছে। রউফ বলেন, ‘‘আমার শখ হয়েছে বলে মামলা দায়ের করছি না। মানুষের সমস্যা রয়েছে বলেই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন।’’ শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিলই এ বিষয়ে ফয়সালা হবে। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিভান আগেই আবেদন জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বাড়ানো হোক। নির্বাচনের আগে যাঁদের আবেদনের ফয়সালা ট্রাইব্যুনালে হবে না, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হোক।

ভোটমুখী তামিলনাড়ুর এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ে যাওয়া একজন মহিলা আজ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। তাঁকে সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁর হয়ে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন বলেন, মামলাকারী ২০০৭ থেকে ভোট দিচ্ছেন। তাঁর পাসপোর্ট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সবই রয়েছে। নাম কাটার আগে তাঁর নোটিস যায়নি। কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়েছে গিয়েছে বলে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শঙ্করনারায়ণন বলেন, ‘‘যখন বিহারের এসআইআর-এর বিরুদ্ধে আমরা প্রথম বার গত বছর জুলাইতে আদালতে এসেছিলাম, তখন বিচারপতি বাগচী বলেছিলেন, গণহারে নাম কাটা গেলে মানুষকে রক্ষা করা হবে। এখন ঠিক সেটাই হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন