Wet Land

জলাভূমির সংজ্ঞা অস্পষ্ট কি না, বিচার করবে সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া রিট পিটিশনের শুনানি হয়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৯:২৬
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

কেন্দ্রীয় বিধিতে জলাভূমির সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, সেই নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা শুনতে রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৭ সালের জলাভূমি সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ বিধিতে জলাভূমির যে সংজ্ঞা রয়েছে, তার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত সংজ্ঞার অস্পষ্টতার দিকটিই বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে মঙ্গলবার।

এ দিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া এই রিট পিটিশনের শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ যুক্তিদেন যে, ২০১৭ সালের বিধিতে জলাভূমির সংজ্ঞা অনেকটাইসংকুচিত করা হয়েছে, যার ফলে পরিবেশগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বহু এলাকা আইনি সুরক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছে। তাঁর মতে, “নতুন নিয়মে সংজ্ঞাটিকে দুর্বল করা হয়েছে। এর ফলে ৯৯টি সুরক্ষিত এলাকার মধ্যে ৪৪টিই সুরক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, এর প্রভাব শুধু কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সারা দেশের জলাভূমির উপর পড়বে। দেশে এক লক্ষেরও বেশি জলাভূমি রয়েছে এবং নতুন সংজ্ঞার জেরে বহু পাখিরালয় তাদের সুরক্ষা হারাতে পারে। বাদ পড়ে যাওয়া জলাশয়ের তালিকায় থাকছে নদীখাত, ধানখেত, পানীয় জলের জন্য নির্মিত কৃত্রিম জলাধার এবং মাছচাষ, লবণউৎপাদন, বিনোদন বা সেচের জন্য তৈরি জলাশয়।

শঙ্করনারায়ণ আরও বলেন, আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় দুই লক্ষ জলাভূমিকে সুরক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের বিধি সেই সুরক্ষাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন যে, আগের রায়গুলি ২০১০ সালের সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে ছিল বলেই সরকার নতুন সংজ্ঞা আনতে পারবে না, এমন নয়। বিচারপতি বাগচী আরও বলেন, আদালতের মূল উদ্বেগ হল সংজ্ঞাটি অতিরিক্ত অস্পষ্ট কি না এবং বিভিন্ন ধরনের জলাশয়ের পরিবেশগত প্রভাবকে একই ভাবে বিচার করা যায় কি না। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘একটি বড় কৃত্রিম জলাধার এবং ছোট প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত প্রভাবকে একই ভাবে দেখা যায় কি না, সেটাই প্রশ্ন।’’ শেষ পর্যন্ত বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায় যে, এই পর্যায়ে আদালত শুধুমাত্র সংজ্ঞার অস্পষ্টতার বিষয়টিই বিবেচনা করবে।

পরিবেশ সংক্রান্ত আরও একটি মামলা এ দিন ওঠে সু্প্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে। চম্বলের ঘড়িয়াল অভয়ারণ্যে অবৈধ বালি খাদান নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে ঘিরে আদালত মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজুকে প্রশ্ন করে, তিনি প্রতিবেদনটি পড়েছেন কি না। উত্তরে রাজু বলেন, তিনি প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখবেন। প্রকাশিত তথ্য সত্য হয়ে থাকলে তা ‘অত্যন্ত চমকপ্রদ’।

বিচারপতি মেহতা মন্তব্য করেন যে, আদালতের কড়াকড়ির কারণে অবৈধ বালি মাফিয়ারা তাদের রুট বদলে ফেলেছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, যদি প্রতিবেদনের তথ্য সত্য হয়ে থাকে, তা হলে মধ্যপ্রদেশ সরকার আদালতে মিথ্যা হলফনামা জমা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ সরকারের আইনজীবীকে নতুন করে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন