কে আন্নামালাই। —ফাইল চিত্র।
দলীয় সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। তামিলনাড়ু বিজেপির অন্যতম নেতা তথা দলের প্রাক্তন রাজ্যসভাপতি কে আন্নামালাই শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দল ছাড়লেন। অবশ্য আন্নামালাইয়ের আগেই তাঁর দলত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘সর্বভারতীয় সভাপতি, মাননীয় নীতিন নবীন, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে অন্নামালাইয়ের তরফে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া ইস্তফা গ্রহণ করেছেন।”
আন্নামালাই বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, তিনি শুক্রবার (৫ জুন) সমাজমাধ্যমে নিজের ভাবনা স্পষ্ট করবেন অনুগামীদের কাছে। বিজেপি ছেড়ে নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করেছেন কি না, তা-ও জানাবেন। এক্স পোস্টে আন্নামালাই লিখেছিলেন, “আগামিকাল দুপুর ১২টায় আমি অধীর আগ্রহে আপনাদের সকলের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে মতবিনিময়ের অপেক্ষায় আছি। সেখানে আমি মত বিনিময় করব এবং খোলামেলা, আন্তরিক আলাপচারিতায় অংশ নেব।” আন্নামালাই সমাজমাধ্যমে তাঁর ‘খোলামেলা, হৃদয় থেকে হৃদয়ের আলোচনা আলোচনার লিঙ্কও পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই ৪১ বছরের প্রাক্তন আমলাকে অব্যাহতি দিল বিজেপি।
প্রসঙ্গত, ১ জুন নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের আন্নামালাই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। আমরা দু’দিনের মধ্যে বসে কথা বলব।” এর পরে ২ জুন তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দু’জনের মধ্যে প্রায় আধ ঘণ্টা রূদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই সংবাদ শিরোনামে আন্নামালাই। এনডিএ-র শরিক দল এডিএমকে-র প্রধান পলানীস্বামীর ‘অনুরোধে’ রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় নায়নার নগেন্দ্রকে। যদিও বিধানসভা ভোটে মাত্র একটি আসনে জেতে বিজেপি। ভোট মিটতেই ‘বেসুরো’ হন আন্নামালাই। আর শুরু হয় তাঁর দল ছাড়া নিয়ে জল্পনা। সেই জল্পনায় যবনিকা পড়ল শুক্রবার।