তেজস যুদ্ধবিমান। —ফাইল চিত্র।
দু’মাস পরে আবার ভারতীয় বায়ুসেনায় ফিরতে চলেছে হালকা যুদ্ধবিমান (লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট) তেজস। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ৮ এপ্রিল থেকে আবার পুরোদস্তুর উড়ান অনুশীলনে যোগ দেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এমকে-১ স্কোয়াড্রন।
গত নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ের এয়ার শো-তে একটি তেজস ভেঙে পড়ার পরেই তেজস যুদ্ধবিমানের উড়ানে কিছু নিয়ন্ত্রণ জারি করেছিল বায়ুসেনা। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন যুদ্ধবিমানটির ককপিটে থাকা উইং কমান্ডার নমন স্যাল। এর পরে ফেব্রুয়ারির গোড়ায় পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় আবার একটি তেজস এমকে-১ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিমানের অনবোর্ড কম্পিউটার সফ্টঅয়্যারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
এর পরেই বায়ুসেনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড’ (হ্যাল)-কে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বার্তা দিয়ে তেজস স্কোয়াড্রনগুলি ব্যবহৃত ৩৪টি যুদ্ধবিমানের উড়ান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। হ্যালের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডিকে সুনীলের জানিয়েছেন, তাঁর সফল ভাবে অনবোর্ড কম্পিউটার সফ্টঅয়্যারে যান্ত্রিক ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছেন। ৩৪টি তেজসই পরীক্ষা করার পরে উড়ানে অংশ নেওয়ার জন্য অনুমোদন পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক হ্যাল-কে বায়ুসেনার জন্য ৮৩টি তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত দিয়েছিল। চুক্তি হয়েছিল ৪৮ হাজার কোটি টাকায়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একই সংস্থাকে আরও ৯৭টি তেজস তৈরির বরাত দেওয়া হয়। সেই চুক্তি হয় ৬২ হাজার কোটি টাকায়। কিন্তু সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ওই সংস্থা বার বার ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগ, জিই এরোস্পেস থেকে এরো ইঞ্জিনের জোগান মিলছে না। তেজসে মোট তিন বার দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে এক জন চালকের (দুবাইয়ে)। ২০২৪ সালের মার্চে প্রথম বার রাজস্থানের জৈসলমেরের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল তেজস।