—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
প্রশ্নফাঁস এবং গুজব ঠেকাতে নিটের আগে টেলিগ্রাম অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ বার কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম। তাদের যুক্তি, এই নিষেধাজ্ঞার জেরে লক্ষ লক্ষ বৈধ ব্যবহারকারীর উপর প্রভাব পড়ছে, যা অনুচিত। বুধবারই জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি রয়েছে। বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে।
প্রশ্নফাঁসের কারণে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি বাতিল করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। পুনরায় সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে ২১ জুন। মোদী সরকারের কাছে এনটিএ-র অনুরোধ ছিল, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করা হোক। এনটিএ-র অনুরোধ মেনে সেই পথে হাঁটে কেন্দ্র। তাদের যুক্তি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল টুকলি চক্র রোধ, প্রশ্নফাঁসের ভুয়ো দাবি এবং পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় মঙ্গলবার দুপুরে ‘ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম’ টেলিগ্রাম-কে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করে। এনটিএ-র ডিরেক্টর অভিষেক সিংহের কথায়, ‘‘পরীক্ষাটি যাতে সুষ্ঠু ভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমরা এ বার কোনও ভুল হতে দেব না।’’ এনটিএ-র দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং ফাঁসের ভুয়ো দাবির প্রচার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। টেলিগ্রামে বিভিন্ন চ্যানেল রয়েছে যেখানে এই সব দাবি করা হয়।
ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগই নয়, এর আগে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে বেআইনি ভাবে টাকা তোলা এবং ওই অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়া খেলা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে৷ ২০২৪ সালের অগস্টে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সে বছরই বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে লে বর্গেট বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল টেলিগ্রাম-কর্তা পাভেল দুরভকে। পরে ফ্রান্সের আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। ভারতে এই অ্যাপটির ৫০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে মঙ্গলবারই সরব হন তিনি। ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘‘সরকার আমাদের অ্যাপ ব্যবহারকারী ১৫ কোটি ভারতবাসীকে শাস্তি দিয়েছে।’’ তার পরের দিনই দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল টেলিগ্রাম।