শুধুই নেটবাজারে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ বিক্রি নয়। সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ফল ও সব্জি সংগ্রহ করার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা তৈরি করছে ভারতের বৃহত্তম অনলাইন মুদিখানা ‘বিগ বাস্কেট’। আর সেই ব্যবসায়িক মানচিত্রে সব্জির ফলনের জন্য উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে তারা।
বিগ বাস্কেটের ভাঁড়ারে রয়েছে ১৫ হাজারের বেশি পণ্য। এর মধ্যে ফল ও সব্জি বিক্রির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হরি মেনন। তাঁর দাবি, কৃষকদের থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য কেনার দু’টি লাভ রয়েছে। প্রথমত, জিনিসের মান ধরে রাখা যাবে। দ্বিতীয়ত, দামের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে কৃষক ও সংস্থার, দু’পক্ষেরই। কারণ সেক্ষেত্রে কেনাবেচার মাঝে থাকবে না দালালের অস্তিত্ব। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই তারা রাজ্যের কাছে এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস মার্কেট কমিটি বা এপিএমসি লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানিয়েছে।
ফল ও সব্জির জন্য গোটা দেশে ১৭টি সংগ্রহ কেন্দ্র তৈরি করছে বিগ বাস্কেট। প্রতিটি কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন প্রায় ১০০ কৃষক। সংস্থার দাবি, শুধুই কৃষিপণ্য কেনা নয়। ভাল ফলনের জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পরিকাঠামোগত সহায়তাও দেবে সংস্থা। পশ্চিমবঙ্গে বারাসতে তৈরি হচ্ছে এই কেন্দ্র।
২০১১ সালে ব্যবসা শুরু করলেও কলকাতায় সদ্য পা রেখেছে বিগ বাস্কেট। সাতটি বড় শহরে আগেই ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে হাজার কোটি টাকা ব্যবসা করা নেটবাজারের মুদিখানা। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, মুম্বই, পুনে, চেন্নাই, দিল্লি ও আমদাবাদের পরে কলকাতায় ব্যবসা শুরু করছে বিগ বাস্কেট। হরি মেননের দাবি, কলকাতায় পরিষেবা দেওয়ার আগেই বিপুল সাড়া পেয়েছে তাঁর সংস্থা। আটটি বড় শহরের পাশাপাশি ২০টি দ্বিতীয় স্তরের শহরেও ব্যবসা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত বড় ও ছোট শহর মিলিয়ে, মোট ১৬টি শহরে সংস্থার উপস্থিতি আছে। আগামী মাসের শেষে বাকি ১২টি শহরেও ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে বলে দাবি হরি মেননের। আর এই সম্প্রসারণের হাত ধরেই ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে বিগ বাস্কেট।