ভবিষ্যতের শহরের গল্প শোনাল তিন স্কুলপড়ুয়া

অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এমজিভিকে ভানু দু’বছর আগে শিলচরে এসে বলেছিলেন— ‘বড় নোংরা শহর!’ পুরপ্রধান থাকার সময় বীথিকা দেবের বক্তব্য ছিল, ‘‘শিলচরের মানুষের সিভিক সেন্স নেই।’’

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০৬
Share:

অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এমজিভিকে ভানু দু’বছর আগে শিলচরে এসে বলেছিলেন— ‘বড় নোংরা শহর!’ পুরপ্রধান থাকার সময় বীথিকা দেবের বক্তব্য ছিল, ‘‘শিলচরের মানুষের সিভিক সেন্স নেই।’’

Advertisement

সে সব নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছিল তখন।

গত সপ্তাহে সেই শিলচরেরই দশম শ্রেণির তিন পড়ুয়া মুম্বইয়ে গিয়ে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় ‘বেঁচে থাকার উপযোগী শহর কেমন হওয়া উচিত’, তা শুনিয়ে সবাইকে চমকে দিল!

Advertisement

দ্বিতীয় পুরস্কার হাতে ফিরে এসে তারা জানাল, ‘শুধু মুম্বই-দিল্লি কেন, সামান্য চেষ্টায় শিলচরও হয়ে উঠতে পারে তাঁদের মডেল-এর মতো।’

কী সেই মডেল?

শিলচরের একটি বেসরকারি স্কুলের ডেইজি পাঠক, রুম্মানা আখতার ও শুভদীপ পুরকায়স্থ বলে, ‘‘সাসটেইনেবল সিটি বা বেঁচে থাকার উপযোগী শহর কিছুই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে আজকের শহর গড়ে তোলা।’’ ওই পড়ুয়াদের বক্তব্য, এই সময়ে সভ্যতা যে ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করছে, তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে সঞ্চিত শক্তির ৭০ শতাংশ ফুরিয়ে যাবে। আর পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে বাস করবে। এর পরের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। শহরে বড় বড় আবাসন গড়ে উঠবে, পরিকাঠামোগত উন্নতি হবে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিরাপদে শ্বাস নেওয়ার মতো ফাঁকা জায়গা কি থাকবে?

তিন পড়ুয়ার কথায়, ‘‘সে জন্য এখনই ভাবতে হবে। বিশেষ করে, আবাসন তৈরির সময় শিশুদের খেলাধূলার জন্য মাঠ রাখাটা খুব জরুরি। বসবাসের ঘর বা সরকারি দালানবাড়ি গড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, ঘরে যেন সূর্যের আলো ঢোকে। আবার তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তা হলে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার কমবে। দালানবাড়ির ছাদে বাগান করা চাই। প্রয়োজন ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে বাসে-ট্রেনে চলা, বৃষ্টির জল ধরে রাখা ও জিনিসপত্রের অপচয় না করা।’’

ডেইজিরা জানায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে সরকারি সংস্থাগুলিকেও পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। যানজট ঠেকানো না গেলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়ে সব ভালো ভাবনারই বারোটা বাজাবে। সবুজ বাঁচানো, পুনঃনবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন, বিতরণ এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করাও আগামী দিনে সুস্থ থাকার সহায়ক হবে। সঙ্গে তারা তথ্য সরবরাহ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দেয়।

তিন পড়ুয়ার পরামর্শ— স্থানীয় ভিত্তিতে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন প্রয়োজন। তা হলে পণ্য পরিবহণে গাড়ির ব্যবহার কমবে, কমবে কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাওয়া। বর্জ্য জল ও জঞ্জাল প্রক্রিয়াগত ভাবে পুনর্ব্যবহার করা গেলে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ বেঁচে যায়। তবে সব চেয়ে বড় কথা হল, গাছ লাগাতে হবে, প্রচুর প্রচুর গাছ।

এমজিভিকে ভানু বা বীথিকা দেব যা-ই বলুন, নিজের শহর শিলচর নিয়ে তিন জন হতাশ নয়। ডেইজি, রুম্মানা, শুভদীপ-রা বলে, ‘‘আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সঙ্গে চাই প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা কার্যকর করা।’’ এই সচেতনতার কাজটি সবাই মিলে করা গেলে তা কঠিন নয় বলেই মনে করে এরা। তিন জনই জানায়, ‘‘আমরা নিজেদের সাধ্যমত সেই কাজ করে যাব।’’

প্রতিযোগিতায় তাদের সঙ্গে যান স্কুলের শিক্ষিকা কবিতা পাঠক। তিনিও বলেন, ‘‘এই বিষয়টা আমিও নতুনভাবে উপলব্ধি করলাম। এ শুধু শেখার নয়, জীবনে প্রয়োগের।’’

স্কুলের অধ্যক্ষ সুব্রত দে, উপাধ্যক্ষ বাবি দত্ত দে, চারুকলা শিক্ষক সন্দীপন দত্তপুরকায়স্থ-সহ সবাই বলেন, ‘‘বাইরে গিয়ে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা এত কথা বলে আসায় আমাদেরও দায়িত্ব বাড়ল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement