Lok Sabha Speaker Om Birla

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এ বার তৃণমূলেরও নিশানায়! কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির আনা অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থনের সিদ্ধান্ত

কংগ্রেসের পাশাপাশি, সমাজবাদী পার্টি , ডিএমকে, শিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি (শরদ)-সহ কয়েকটি বিরোধী দল ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে’র অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে সই করেছে। এ বার তাতে সই করবে তৃণমূলও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১২:৩৩
Share:

(বাঁদিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ওম বিড়লা এবং রাহুল গান্ধী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেস-সহ কয়েকটি বিরোধী দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। সোমবার থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। সেখানেই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির সম্ভাবনা। সোমবার বিতর্কের জন্য বিষয়টি তালিকাভুক্তও করা হয়েছে।

Advertisement

কংগ্রেসের পাশাপাশি, সমাজবাদী পার্টি বা এসপি, ডিএমকে, শিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি (শরদ)-সহ কয়েকটি বিরোধী দল ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে’র অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে সই করেছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে, বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে লোকসভার সচিবালয়ে এই নোটিস জমা দিয়েছিলেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। কিন্তু সেই নোটিসে তৃণমূলের কোনও সাংসদের সই ছিল না। সে দিন সকালে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কংগ্রেসের উদ্যোগে স্পিকারের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে তাতে তৃণমূলের সাংসদদের সই করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি দাবি করেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়ে দেন, সে প্রক্রিয়া মানলে তবেই তৃণমূল তাতে সই করবে।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে বিরোধী দলনেতা রাহুল-সহ বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদকে বক্তৃতা করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আট জন সাংসদকে একতরফা ভাবে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছেন স্পিকার বিড়লা। লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরর গগৈ ১০ ফেব্রুয়ারি বলেন, ‘‘প্রচণ্ড পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি আমরা।’’ বিরোধী পক্ষ অনাস্থা-নোটিস জমা দেওয়ার পরেই লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহকে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্পিকার বিড়লা। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের বাকি দিনগুলিতে আর সভা পরিচালনা করেননি তিনি।

Advertisement

ভারতের সংসদীয় ইতিহাস বলছে, অতীতেও লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের জন্য চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনও বারই তা সফল হয়নি। এ বারের সংসদীয় পাটিগণিতের হিসাবে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের আওতায় লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। তবে এর জন্য লোকসভার সাংসদদের ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্পিকারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হওয়া প্রয়োজন। তার আগে ওই প্রস্তাবের জন্য একটি লিখিত নোটিস জমা দিতে হয়। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ওই নোটিস দিতে হয় প্রস্তাবের অন্তত ১৪ দিন আগে।

স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা নোটিস আনতে হলে লোকসভার অন্তত দু’জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকতে হয়। তবে সর্বোচ্চ কত জনের স্বাক্ষর থাকতে পারে, তার কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই (এ বার এখনও পর্যন্ত বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ১২০ জন সাংসদ সই করেছেন)। নোটিসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে সেটি গৃহীত হলে আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর থেকে বিবেচনাধীন থাকা পর্যন্ত সময়ে নিম্নকক্ষের কার্যক্রম সাধারণত স্পিকার পরিচালনা করেন না। তাঁর পরিবর্তে ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত কোনও সাংসদ নিম্নকক্ষ পরিচালনা করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement