পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। — ফাইল চিত্র।
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের। সম্প্রতি তাঁর বিতর্কিত ভিডিয়োর ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছিল। মান দাবি করেন, ওই ভিডিয়োয় যাঁকে দেখা যাচ্ছে, সেই ব্যক্তি তিনি নন। নিজের দাবির সমর্থনে ওই ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ, ওই রিপোর্ট জাল, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে তৈরি করা হয় সেটি। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের মুখে বিতর্কে জড়ালেন মান। তাঁর পদত্যাগ এবং গ্রেফতারির দাবি তুলল বিজেপি।
বিতর্কের সূত্রপাত বেশ কিছু দিন আগে একটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়োতে দেখা যায় শিখগুরুদের ছবিতে মদ ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ভগবন্তও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। ওই নিয়ে বিতর্ক জোরালো হতেই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন ভিডিয়োটি ভুয়ো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি। গত সপ্তাহে পঞ্জাব সরকার একটি ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনে। দাবি করা হয়, দু’টি ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ভিডিয়োটি বিশ্লেষণ করে ওই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকেই সমর্থন করে।
কিন্তু ওই রিপোর্ট জাল বলে দাবি উঠল। গুরুগ্রাম পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই ফরেনসিক রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। মামলা দায়ের করেছে তারা। তাদের দাবি, ওই রিপোর্ট জাল করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, ভগবন্ত সরকার ওই ভিডিয়োটি নিয়ে একটি জাল রিপোর্ট তৈরি করতে পঞ্জাব পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়েছে। গুরুগ্রাম পুলিশ মঙ্গলবার অঙ্কিত এবং অরুণ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। বিজেপি নেতা মনজিন্দর সিংহ সিরসা দাবি করেন, ‘‘ভগবন্ত মান শিখ এবং অকাল তখ্তকে অপমান করেছেন। তিনি তাঁর অর্থশক্তি দিয়ে অকাল তখ্তকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছেন। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত।’’ অকাল তখ্ত আগেই আহ্বান করেছিল, শিখ ধর্মাবলম্বীরা কেউ যেন ভগবন্তের সঙ্গে সংস্রব না রাখেন। এমনকি তাঁকে ‘গুরুবিরোধী’ বলে ঘোষণাও করে।