হরিণ কার, টানাটানি ভারত-নেপালে

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাধারণত এই এলাকায় হাতির পালকে নিয়ে চাপানউতোর চলে। শীত পড়তেই ধানের লোভে হাতি আসে সীমান্তবর্তী এই এলাকায়।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৩:০৪
Share:

উদ্ধার: নকশালবাড়িতে কাকর হরিণ।—নিজস্ব চিত্র।

ও-পারে নেপালের বামনডাঙি জঙ্গল। এ-পারে ভারতের কলাবাড়ির জঙ্গল। মেচি নদীর এই দু’পাশে দু’দেশের মাঝখানে এসে পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক মেয়ে কাকর হরিণ (বার্কিং ডিয়ার)। তাকে নিয়ে শুক্রবার একবেলা ধরে চলে দড়ি টানাটানি ভারত-নেপালের বাসিন্দাদের মধ্যে। শেষে বনকর্মীরা প্রায় জোর করে হরিণটিকে বাগডোগরা স্কোয়াড়ে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় তাকে বেঙ্গল সাফারি পার্কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাধারণত এই এলাকায় হাতির পালকে নিয়ে চাপানউতোর চলে। শীত পড়তেই ধানের লোভে হাতি আসে সীমান্তবর্তী এই এলাকায়। তখন সেই হাতি কার, তাই নিয়ে শুরু হয়ে যায় তর্ক। দু’পক্ষই অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

আর এ দিন দেখা গেল উলটপুরাণ। হরিণকে কাছে টেনে নিতে চাই দু’দিকের বাসিন্দাই।

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, নকশালবাড়ি শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কিলারাম জোত। ৫০০ মিটারের মধ্যে সীমান্ত। মেচি নদীর নেপালের দিকে বামনডাঙি, আর ভারতের দিকে পাগলাবস্তির ধারে কলাবাড়ি জঙ্গল। হাতি, চিতাবাঘ ছাড়াও বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ার রয়েছে জঙ্গলগুলিতে। সেখান থেকেই দলছুট হয়ে ভোরবেলা আনারস খেতে এসে পড়ে হরিণটি। কয়েক জন গ্রামবাসী তাকে দেখতে পেয়েই ধরার জন্য মাঠে নেমে পড়েন। তাড়া খেয়ে হরিণটি ছুটোছুটি শুরু করে দেয়। গাছ আর ঝোপের ফাঁকে লুকনোরও চেষ্টা করে। অনেক চেষ্টায় শেষে স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ মাসুরুদ্দিন হরিণটিকে ধরে বাড়িতে নিয়ে চোখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন।

এর মধ্যে বামনডাঙি থেকে জনা ৫০ নেপালি নাগরিক এসে হরিণটাকে জোর করে নিয়ে যেতে চান। ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। তখন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য গৌতম ঘোষ হাজির ছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই পুলিশ-বনকর্মীদের খবর দেওয়া হয়। পরে হরিণটিকে বনকর্মীরা নিয়ে যান। নকশালবাড়ির রেঞ্জার সুরেশন নার্জিনারি বলেন, ‘‘হরিণটি একটি পূর্ণবয়স্ক মেয়ে বার্কিং ডিয়ার। একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।’’ বন দফতরের একাংশের বক্তব্য, আপনা মাংসে হরিণা বৈরী— এখানে এই কথা খুব খাটে। মাংসের লোভেই হয়তো ও দিকের লোকজন হরিণের দখল নিতে এসেছিল!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement