দক্ষিণী তারকা তথা টিভিকে প্রধান সি জোসেফ ‘থলপতি’ বিজয়। —ফাইল চিত্র।
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন দক্ষিণী তারকা সি জোসেফ ‘থলপতি’ বিজয়। রবিবার শপথগ্রহণ করবেন তিনি। তাঁর দল তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে)-কে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই-সহ পাঁচটি দল। তামিলনাড়ুর লোকভবন থেকে জানানো হয়েছে, চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে রবিবার সকাল ১০টায় শপথগ্রহণ হবে।
শনিবার সন্ধ্যাতেই সরকার গঠনের জাদুসংখ্যা স্পর্শ করে ফেলে টিভিকে। তার পরেই লোকভবনে যান টিভিকে প্রধান বিজয়। সরকার গঠনের বিষয়ে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ অরলেকরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এর কিছু ক্ষণ পরেই লোকভবন থেকে বিবৃতি দিয়ে বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুতে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮টি আসন দরকার। কিন্তু বিজয়ের দল টিভিকে একক ভাবে সেই জাদুসংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি। তারা পেয়েছে ১০৮টি আসন। তার মধ্যে বিজয় নিজে জিতেছেন দু’টি আসনে। অর্থাৎ, টিভিকে-র প্রকৃত জয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ১০৭। পাঁচ জয়ী প্রার্থী নিয়ে কংগ্রেস আগেই তাদের সমর্থনের বার্তা দিয়েছে। পরে সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএল-ও বিজয়দের সমর্থন জানিয়েছে। এই দলগুলির প্রত্যেকেরই দু’জন করে জয়ী প্রার্থী রয়েছেন। ফলে এখন বিজয়ের কাছে সরকার গঠনের জন্য মোট ১২০ জয়ী প্রার্থীর সমর্থন রয়েছে।
সরকার গঠনের জন্য গত বুধবার থেকে প্রতি দিন লোকভবনে যাচ্ছেন টিভিকে প্রধান বিজয়। কিন্তু তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক জয়ী প্রার্থীর সমর্থন রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না রাজ্যপাল। এই অনিশ্চয়তা কাটে শনিবার ভিকেসি-র এক বিবৃতিতে। ভিকেসি প্রধান থল তিরুমাভালাভন জানিয়ে দেন, তাঁর দল নিঃশর্ত ভাবে সমর্থন করবে বিজয়ের দলকে। তামিলনাড়ুতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হওয়া এড়াতে এবং বিজয়দের সরকার গঠনে সাহায্য করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর পরই সন্ধ্যায় ফের লোকভবনে যান বিজয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তামিলনাড়ুর প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কে সেলভাপেরুথগাই, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পি শনমুগম-সহ অন্য সমর্থনকারী দলের নেতারা। রাজ্যপাল অরলেকরের সঙ্গে দেখা করে শনিবার ফের সরকার গঠনের জন্য অনুরোধ জানান বিজয়। উল্লেখ্য, এ বারের নির্বাচনে ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট ৭৪ এবং এডিএমকে-বিজেপি জোট ৫৩টি আসন জিতেছে। কিন্তু কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি একে একে এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গ ছেড়েছে।