Ketan Agarwal Murder Case

সিয়ার হয়ে সওয়াল করবেন কে? আদালতেই দুই উকিলে ঝগড়া! দাদা ‘রায়’ ঘোষণা করতেই ১০ কোটি টাকার মানহানি নোটিস

ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল খুনে গ্রেফতার তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া। বডগাও মবল আদালতে তাঁর হেফাজত সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সিয়ার পক্ষে কে সওয়াল করবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৭:১৫
Share:

সিয়া গোয়লের দাদা সাহিলের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠালেন আইনজীবী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সিয়া গোয়লের হয়ে আদালতে কে লড়বেন? দুই আইনজীবীর ‘লড়াইয়ে’ সরগরম হয়ে উঠল আদালতকক্ষ। আইনজীবী আশুতোষ শ্রীবাস্তব দাবি করেন, তিনিই এই মামলায় সিয়ার পক্ষে সওয়াল করবেন। অন্য দিকে, আইনজীবী বিপুল দুশিং জানান, সিয়ার পরিবার তাঁকে নিযুক্ত করেছে। অভিযুক্তের পক্ষে আইনগত ভাবে কে লড়বেন, তা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে আইনজীবী আশুতোষ আবার সিয়ার দাদা সাহিল গোয়লের বিরুদ্ধে মানহানি মামলায় ১০ কোটি টাকার নোটিস পাঠিয়ে বসলেন।

Advertisement

ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল খুনে গ্রেফতার তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া। বডগাও মবল আদালতে তাঁর হেফাজত সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সিয়ার পক্ষে কে সওয়াল করবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে। প্রকাশ্য বিবাদ শুরু হয় আদালতকক্ষে। বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানিতে আশুতোষ সিয়ার পক্ষে সওয়াল শুরু করেন। দাবি করেন, তাঁর কাছে সিয়ার দেওয়া বৈধ ওকালতনামা (অনুমতিপত্র) রয়েছে।

তবে দ্বন্দ্ব দেখা যায় যখন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মুখ খোলেন সিয়া। তিনি জানান, তাঁর হয়ে সওয়াল করার জন্য শুধুমাত্র বিপুলকে নিযুক্ত করেছেন। তাঁর এই বয়ানের পর শ্রীবাস্তব আর সওয়াল করতে পারেননি। আদালতকক্ষ ছাড়তে হয় তাঁকে। পরে সাহিল এবং গোয়ল পরিবারের সদস্যেরাও জানান, সিয়ার হয়ে মামলাটি লড়ছেন বিপুলই। তাঁরা আশুতোষ বা তাঁর ‘ল ফার্ম’-কে দায়িত্ব দেননি।

Advertisement

আদালতকক্ষের সেই বিবাদ পরে নতুন আইনি জটিলতার জন্ম দেয়। আশুতোষ ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠিয়েছেন সাহিলকে। তিনি দাবি করেন, সিয়ার আইনজীবী হিসাবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়নি, এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর, যা তাঁর পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।

আইনি নোটিসে দাবি, সাহিল যেন তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য যাতে আর না-করেন, তার লিখিত আশ্বাস দিতে হবে সাহিলকে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিসে। আশুতোষের দাবি, সিয়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক। পরিবারের সম্মতি ছাড়াই স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং ওকালতনামায় স্বাক্ষর করার আইনি অধিকার আছে তাঁর।

গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড়ে দুর্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল কেতনের। প্রথমে বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসাবে মনে হয়েছিল পুলিশের। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আসল তথ্য প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা করে কেতনকে খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী। পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে। কেতনের বাবার অনুরোধে এই মামলা সরকার পক্ষে লড়বেন উজ্জ্বল নিকম। ২৬/১১ মুম্বই হামলার ঘটনায় তিনি সরকারের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement