Modi and Al Nahyan meeting

আল নাহানের সফর ‘অক্সিজেন’ জোগাল দিল্লিকে

রাশিয়া থেকে তেল কেনার খেসারত হিসেবে জরিমানা বাবদ আমেরিকাকে ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিতে হচ্ছে ভারতকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫১
Share:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহান। ছবি: পিটিআই।

সাড়ে তিন ঘণ্টার নয়াদিল্লি সফরে এসে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদারের পদক্ষেপ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর অনেকগুলি চুক্তিপত্রে সই করল দু’দেশ। পরে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, কৌশলগত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র, মহাকাশ অভিযান পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, গুজরাতের ঢোলেরা অঞ্চলে বিশেষ বিনিয়োগ নিয়ে চুক্তি সই হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এইচপিসিএল এবং আবু ধাবির তেল সংস্থার মধ্যে কেনাবেচা সংক্রান্ত চুক্তিও সই হয়। মিস্রীর বক্তব্য, আজ দুই শীর্ষনেতা ঐকমত্য হয়েছেন ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর প্রশ্নে। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার খেসারত হিসেবে জরিমানা বাবদ আমেরিকাকে ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিতে হচ্ছে ভারতকে। তেলের বিকল্প সূত্র খুঁজতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে কিছুটা বাধ্যতামূলক ভাবে আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়িয়েও মন পাওয়া যাচ্ছে না সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সে ক্ষেত্রে ভারত এবং আবু ধাবির মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত চুক্তিটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে সাউথ ব্লককে। স্থির হয়েছে, ২০২৮ থেকে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকরবে ভারত।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সূত্রেই যৌথ ভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার প্রসঙ্গও আজ এসেছে আলোচনায়। মোদী এবং বিন জায়েদ একযোগে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের নাম না করে। বিষয়টি ভারতের হাত কিছুটা শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, দুই নেতা সম্মিলিত ভাবে বলেন, জঙ্গিদের যারা অর্থ যোগাচ্ছে, সমর্থন করছে তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।

আবু ধাবিতে প্রথম হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন মোদী। শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহানকে বারবার ‘আমার ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বসবাসকারী অনাবাসী ভারতীয়দের সম্মেলনে হওয়া বৈঠকে জায়েদ আল নাহানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অস্থির ভূকৌশলগত পরিস্থিতিতে আবু ধাবি ধারাবাহিক ভাবেই মোদী সরকারের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রেখেছে। আজ কার্যত বন্ধুহীন বলয়ে আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহানকে নয়াদিল্লির অক্সিজেন হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক মহল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন