UGC

যোগী বনাম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? মধ্যপন্থার খোঁজ ইউজিসি বিতর্কে

শঙ্করাচার্য বিতর্ক মেটার আগেই ইউজিসির নির্দেশিকা ঘিরে উত্তাল ছাত্র সমাজের একাংশ। ওই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে পথে নেমেছে সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন এবিভিপিও। শঙ্করাচার্য প্রসঙ্গে অসন্তোষ ও ছাত্র সমাজের বিক্ষোভ—উভয়ের পিছনেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের উচ্চ বর্ণের প্রতিনিধিরা।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩২
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নির্দেশিকায় প্রবল ক্ষুব্ধ উচ্চবর্ণের পডুয়ারা। আগামী দিনে ভোটে এর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় এখন মধ্যপন্থা খুঁজছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও বিরোধীদের মত, এ হল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর জন্য এক শীর্ষ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরিকল্পিত চাল। গোটাটাই করা হচ্ছে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি করে যোগীকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে হটানোর জন্য। সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটির (কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহের নেতৃত্বাধীন) সুপারিশ রূপায়ণ করতে গিয়ে বেকায়দায় শাসক শিবির।

শঙ্করাচার্য বিতর্ক মেটার আগেই ইউজিসির নির্দেশিকা ঘিরে উত্তাল ছাত্র সমাজের একাংশ। ওই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে পথে নেমেছে সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন এবিভিপিও। শঙ্করাচার্য প্রসঙ্গে অসন্তোষ ও ছাত্র সমাজের বিক্ষোভ—উভয়ের পিছনেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের উচ্চ বর্ণের প্রতিনিধিরা। যোগী শাসনে ব্রাহ্মণ-রাজপুত শ্রেণি যে অসন্তুষ্ট তা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে। আর শঙ্করাচার্য ও ইউজিসি কাণ্ডে উচ্চবর্ণ যে ভাবে পথে নেমেছে তাতে যোগীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। রাজনীতিকদের মতে, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে যোগী তৃতীয় বার জিতলে, ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। কংগ্রেসের এক নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘স্বভাবতই যোগীর উত্থান দিল্লিতে বসে থাকা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে কাম্য নয়।’’

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে চলতি মাসে ইউজিসি ওই নির্দেশিকা জারি করে। এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তফসিলি জাতি, জনজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), আর্থিক ভাবে দুর্বল, বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জাত বা তাঁদের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের বৈষম্য অসংরক্ষিত বা উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের সঙ্গেও হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা কেন থাকবে না? নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে না। ফলে প্রতিহিংসাবশত অসংরক্ষিত বা জেনারেল শ্রেণির পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আগামিকাল ফের এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

পরিস্থিতি সামলাতে মধ্যপন্থার খোঁজ শুরু হয়েছে। সূত্রের মতে, ওই নির্দেশিকায় পিছিয়ে পড়া সমাজের সঙ্গেই অসংরক্ষিত পড়ুয়াদের অভিযোগ জানানো এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ করে দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে শাসক শিবির। বিজেপির উত্তরাখণ্ডের এক সাংসদের কথায়, ‘‘বিষয়টি নিয়ে দদ্রুত সমাধান সূত্র পাওয়া যাবে বলে আশা।’’ এসপি নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘সময় এলে এ নিয়েমুখ খুলব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন