Dead Voters

মৃত ভোটারদের আধার নিষ্ক্রিয় করতে সক্রিয় ইউআইডিএআই, তথ্য জানানোর অনুরোধ কমিশনকে, তবে সাড়া মেলেনি এখনও

আধার কর্তৃপক্ষ ইউআইডিএআই-এর তরফে নির্বাচনী কমিশনের কাছে মৃত ভোটারদের তথ্য শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ওই অনুরোধের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে কমিশনের একটি সূত্র জানাচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৪
Share:

এ বার নিশানায় আধার কার্ড। —প্রতীকী ছবি।

এসআইআর প্রক্রিয়া এবং পাঁচটি বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিপর্ব চলাকালীনই মৃত ভোটারদের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এনডিটিভি প্রকাশিত খবরে দাবি, আধার কর্তৃপক্ষ ইউআইডিএআই (ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া)-এর তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে মৃত ভোটারদের তথ্য শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ওই অনুরোধের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে কমিশনের একটি সূত্র জানাচ্ছে।

Advertisement

প্রকাশিত খবরে দাবি, ইউআইডিএআই ফেব্রুয়ারি মাসে কমিশনকে চিঠি লিখে এসআইআর তালিকার প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে শনাক্ত মৃত ভোটারদের তথ্য অ্যাক্সেস করার জন্য অনুরোধ করেছিল। এর মূল লক্ষ্য, আধার ডেটাবেস আপডেট করা। কারণ ইউআইডিএআই নির্দিষ্ট সময় অন্তর মৃত ব্যক্তিদের আধার নিষ্ক্রিয় করে থাকে। কিন্তু কমিশন এখনও তাতে সায় দেয়নি, সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এসআইআর-তথ্য একমাত্র কমিশনের অধিকারভুক্ত এবং এটি সরকারি সংস্থা-সহ কোনও বাইরের সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা এবং তাদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়।

২০২৫ সালে বিহারে শুরু হয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়া। প্রায় ২২ লক্ষ মৃত ভোটার শনাক্ত হয়েছে সেখানে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৪ লক্ষ নাম ‘মৃত’ চিহ্নিত হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। ২০২৫ নভেম্বরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সমস্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) নির্দেশ দিয়েছিল যে তাঁরা আধার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটার তথ্য যাচাই এবং ত্রুটি শনাক্ত করবেন। এই প্রক্রিয়ার সময়, পশ্চিমবঙ্গের সিইও মনোজ আগরওয়াল ইউআইডিএআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলেন। সূত্রের খবর, সেখানে পর্যালোচনা করা তথ্যে দেখা গিয়েছে রাজ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ আধার কার্ডধারীকে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Advertisement

এ ছাড়াও প্রায় ১৩ লাখ বাসিন্দা কখনও আধারে নথিভুক্ত হননি। মৃত ব্যক্তিদের আধার নম্বর অপসারণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। গত নভেম্বরে, ইউআইডিএআই-এর তরফে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (গণবন্টন ব্যবস্থা) এবং ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের তথ্য ব্যবহার করে দুই কোটি অধিক আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করেছে। সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে, ইউআইডিএআই জানিয়েছে যে তারা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মৃত ব্যক্তিদের আপডেটেড তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। সংস্থার এক আধিকারিক ওই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান মৃত ভোটারদের তথ্য রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার তুলনায় বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘২০২৭ সালের আদমশুমারি পর সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’’

চলতি ব্যবস্থায় ইউআইডিএআই-এর তথ্যভান্ডারে মৃত ব্যক্তি-সহ নথিবদ্ধ হওয়া সকলের আধার নম্বর থেকে যাবে। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তিদের আধার কার্ডটি আর কার্যকর থাকবে না। এক কর্তার কথায়, ‘‘আধারের নম্বরটি ইউনিক নম্বর হিসাবেই ধরা হয়। ফলে নম্বরটি তথ্যভান্ডারে রেখে দেওয়ার কারণ, যাতে ওই নম্বরটি অন্য কাউকে আর দেওয়া না যায়। নিষ্ক্রিয় হওয়ার পরে এমন মৃত ব্যক্তিদের কার্ড অসাধু পথে ব্যবহারের চেষ্টা হলেও, স্বংয়ক্রিয় ব্যবস্থায় তা আটকে যাবে।’’ ইউআইডিএআই-এর বক্তব্য, মৃত ব্যক্তির নাম-তথ্য কাজে লাগিয়ে অবৈধ নানা ধরনের কাজ হয়ে থাকে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা ছাড়াও, সরকারি নানা ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধাও পাওয়া যায় আধার থাকলে। মৃত ব্যক্তিদের আধার নম্বরগুলি নিষ্ক্রিয় হলে সেই প্রবণতা ঠেকানো সম্ভব। সে কারণেই এমন উদ্যোগ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement