(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং পলানীস্বামী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র পরে এ বার তামিলনাড়ুতে টানাপড়েনের ‘খবর’ এনডিএ-র অন্দরে। সেখানে প্রধান বিরোধী দল এডিএমকের প্রধান তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ই পলানীস্বামীকে আসন্ন বিধানসভা ভোটে সমঝোতার নতুন শর্ত দিয়েছেন বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি খবরে দাবি।
আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, পুদুচেরীর সঙ্গেই তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোট হবে। সেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এডিএমকে-বিজেপি জোটের। জয়ললিতার মৃত্যুর পরে তাঁর বান্ধবী ভিকে শশীকলা, তাঁর ভাইপো টিটিভি দীনাকরণ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ও পন্নীরসেলভমের মতো নেতারা দল ছাড়ায় সাংগঠনিক ভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে এডিএমকে। এই পরিস্থিতিতে চাপ বাড়িয়ে বাড়তি আসনের পাশাপাশি শাহ নতুন সরকারে ক্ষমতা ভাগাভাগির (নতুন মন্ত্রিসভায় বিজেপি বিধায়কদের অন্তর্ভুক্তি) ‘প্রস্তাব দিয়েছেন’ বলেও প্রকাশিত খবরে দাবি। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ৫৬টি আসনের পাশপাশি ভোটে এনডিএ জয়ী হলে বিজেপির জন্য তিনটি মন্ত্রিপদও দাবি করেছেন শাহ। বুধবার রাতে দিল্লিতে তাঁদের দু’জনের বৈঠক হয়েছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে মাত্র ২০টি আসন ছেড়েছিলেন পলানীস্বামী। সেই ভোটে বিপুল জয় পায় ডিএমকে-কংগ্রেস-বামেদের জোট। এর পরে এনডিএ জোট ছেড়েছিল এডিএমকে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আলাদা ভাবে লড়ে দু’দলেরই ভরাডুবি হয়েছিল। তামিলনাড়ুর ৩৯টি আসনের সব ক’টিতেই জিতেছিল ‘ইন্ডিয়া’। এর পরে সেপ্টেম্বরে এনডিএ-তে ফিরে আসে পলানীস্বামীর দল। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ বারের বিধানসভা ভোটে ‘ইন্ডিয়া’র অন্দরেও টানাপড়েনের খবর এসেছে তামিলনাড়ু থেকে। কংগ্রেসকে মাত্র ৩২টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের দল। পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির দাবিও খারিজ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতাদের বড় অংশই ডিএমকের সঙ্গ ছেড়ে চিত্রতারকা ‘থলপতি’ বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা শুরু করেছেন বলে কয়েকটি খবরে দাবি।