(বাঁ দিকে) রাজকুমারের স্ত্রী। (ডান দিকে) রাজকুমার। ছবি: সংগৃহীত।
সমাজমাধ্যমে স্ত্রীর করা একটি পোস্ট নজরে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন স্বামী। তড়িঘড়ি স্ত্রীকে তাঁর প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, সমাজমাধ্যমে ‘নীল ড্রাম এবং সিমেন্ট’ এই দু’টি শব্দ উল্লেখ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মেরঠের মুস্কান রস্তোগীর স্মৃতি উস্কে ওঠে। সৌরভ রাজপুতের মতো পরিস্থিতি যাতে তাঁরও না হয়, তাই আগেভাগেই সমস্যার নিরসনে নেমে পড়েন উত্তরপ্রদেশেরই বুলন্দশহরের যুবক রাজকুমার।
রাজকুমারের দাবি, স্ত্রীর অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এই বিষয়টি জানার পর থেকেই তাঁদের দু’জনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। গত বছরের জুলাইয়ে তাঁকে ছেড়ে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান স্ত্রী। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, বাপের বাড়ি গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মেলামেশা করতেন স্ত্রী। রাজকুমার বলেন, ‘‘যখনই তাঁকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করতাম, আমাকে শাসিয়ে বলত প্রমাণ দেখাও।’’
সম্প্রতি প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় স্ত্রীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে দাবি রাজকুমারের। ফোন ঘেঁটে দেখেন অশ্লীল ছবি, ভিডিয়ো আদানপ্রদান হয়েছে দু’জনের মধ্যে। স্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখতে গিয়েই চমকে ওঠেন রাজকুমার। সেখানে নীল ড্রাম এবং সিমেন্ট এই দু’টি শব্দ চোখে পড়ে তাঁর। সঙ্গে ছবি। রাজকুমারের তখন সন্দেহ হয়, মেরঠের সৌরভ রাজপুতের মতো তাঁকেও খুনের পরিকল্পনা করছেন স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিক। তার পরই তড়িঘড়ি স্ত্রীর প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করেন রাজকুমার। নিজের হাতেই তাঁর হাতে তুলে দেন স্ত্রীকে।
প্রসঙ্গত, বছরখানেক আগে মেরঠে মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের অভিযোগ ওঠে স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লের বিরুদ্ধে। সৌরভকে খুনের পর দেহ টুকরো করে নীল ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে মুখ আটকে দেন। সেই ঘটনা গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।