প্রতীকী ছবি।
এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন এক যুবক। কিন্তু পেলেন তিন লক্ষ টাকা। কী ভাবে?
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০১৭ সালের। সুরতের এক যুবক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। তিনি এটিএম কার্ডটি ঢুকিয়ে পিন দেন। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সেই টাকা এটিএম থেকে বেরিয়ে আসেনি। এমনকি কোনও রসিদও বার হয়নি। টাকা না পেয়ে তিনি বাড়ি চলে আসেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইলে মেসেজ ঢোকে অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এই মেসেজ পাওয়ার পর ওই যুবক হতভম্ব হয়ে যান।
এই ঘটনার পর ওই যুবক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে। এ ছাড়াও এই ঘটনা জানিয়ে বেশ কয়েক বার ইমেলও করেন বলে দাবি। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছ থেকে কোনও রকম সদুত্তর পাননি। তার পর তিনি এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান। তার পরেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের (কনজ়িউমার ফোরাম) দ্বারস্থ হন। টানা ন’বছর ধরে আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সেই মামলা জেতেন যুবক। জানা গিয়েছে, যুবকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে। কিন্তু তিনি যে এটিএম কিয়স্ক থেকে টাকা তুলেছিলেন, সেটি অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের। যুবকের অ্যাকাউন্ট যে ব্যাঙ্কে রয়েছে, সেই ব্যাঙ্ক দাবি করে এটি তাদের ভুল নয়। এটিএম যে ব্যাঙ্কের ত্রুটি তাদের। তা ছাড়া ‘ট্রানজাকশন সাকসেসফুল’ দেখিয়েছে। অতএব, এর দায়ভার তাদের নয়।
কিন্তু ওই ব্যাঙ্কের সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। তার পর নির্দেশ দেয় বার্ষিক ৯ শতাংশহারে সুদে যুবককে যেন আসলসমেত টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়।রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুসারে এই ধরনের লেনদেন কোনও সমস্যা হলে পাঁচ দিনের মধ্যেই তার সমাধান হওয়ার কথা।এ ক্ষেত্রে ওই পাঁচ দিনের পর প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে ওই ব্যক্তিকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩২৮৮ দিন পর টাকা ফেরত দেয় ব্যাঙ্ক। আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লক্ষ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়াও মানসিক ভাবে হেনস্থা করার জন্য অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা, আইনি খরচের জন্য আরও ২০০০ টাকা যুবককে দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়।