— প্রতীকী চিত্র।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদির পরিবার এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির তরফ থেকে ইরান সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, অবিলম্বে যেন এই মানবাধিকার কর্মীর উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
গত ডিসেম্বর থেকে ইরানের একটি কারাগারে বন্দি ছিলেন নার্গিস। শুক্রবার তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল, ৫৪ বছর বয়সি মোহাম্মদির শরীর খারাপ হওয়ায় তাঁকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান কারাগার থেকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নার্গিসের পরিবার এই পদক্ষেপকে ‘শেষ মুহূর্তের’ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, কারাগারে দীর্ঘ অত্যাচারের ফলে নার্গিসের শরীরের যা অবস্থা, তাতে এই পদক্ষেপ হয়তো খুব দেরিতে নেওয়া হয়েছে। নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশনের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘১৪০ দিন ধরে নার্গিসকে আটক করে রাখা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এখন যে চিকিৎসা পরিষেবাটুকু তিনি পাচ্ছেন, সেটাও যথেষ্ট নয়।”
নার্গিসের ভাই হামিদরাজ়া মোহাম্মদি গতকাল এক ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাকে জানান, জানজান কারাগারের অন্য বন্দিরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান, সম্ভবত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে। নার্গিসের রক্তচাপ হঠাৎ করে অনেক কমে গিয়েছিল এবং চিকিৎসকেরা তা কিছুতেই স্থিতিশীল করতে পারছিলেন না। হামিদরাজ়া আরও জানিয়েছেন, হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস ও রক্তচাপজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগছেন তাঁর দিদি। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ এর আগে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেছিলেন।
নার্গিসের ভাই জানিয়েছেন, বর্তমানে পালমোনারি এম্বলিজ়ম ও হৃদ্যন্ত্রে স্টেন্ট বসানো-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে নোবেলজয়ী মানবাধিকার কর্মীর। যে ধরনের চিকিৎসা তাঁর প্রয়োজন, তা জানজানের হাসপাতালে করা সম্ভব নয়। তাই তাঁকে দ্রুত তেহরানের এমন একটি হাসপাতালে পাঠানো উচিত, যেখানে নার্গিসের পূর্বপরিচিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে পারবেন।
হামিদরাজ়া মোহাম্মদির এই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে বিবৃতি জারি করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস। তিনি সংবাদ সংস্থার কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এখনও মোহাম্মদির জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।
নার্গিসকে এখন পর্যন্ত ১৩ বার গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০২১ সালে তিনি ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার’ ও ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে তেহরানের কুখ্যাত ইভিন কারাগার থেকে সাময়িক ভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি তাঁর আন্দোলন চালিয়ে যান এবং গত ডিসেম্বর মাসে মাশহাদে এক মানবাধিকার কর্মীর স্মরণসভায় বক্তব্য দেওয়ার পরে তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হয়। নার্গিসের পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারের সময়ে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল, যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তিও করতে হয়। তার পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে ‘সমাবেশ ও ষড়যন্ত্র’ এবং ‘প্রচারণামূলক কার্যকলাপ’-এর অভিযোগে আরও সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল নার্গিসকে।
এ দিকে, ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ২০২২ সালে দেশ জুড়ে বিক্ষোভের সময়ে এক নিরাপত্তা আধিকারিককে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত মেহরাব আবদুল্লাহজ়াদেকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। রবিবার এই খবর সরকারি ভাবে জানানো হয়। মানবাধিকার কর্মীদের অবশ্য দাবি, নির্যাতন করে মেহরাবের থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে