(বাঁ দিকে) আজ়াদ বিয়ে করতে যাওয়ার পথে খুন হলেন আততায়ীর গুলিতে। ছবি: সংগৃহীত।
সকলেই আনন্দিত। নাচতে নাচতে বরের সঙ্গে যাচ্ছিলেন বিয়ের মণ্ডপে। ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে পাত্র। কিন্তু সকলের মনেই একটা ভয় ছিল। কারণ দু’দিন আগেই প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন পাত্র। জানানো হয়েছিল, যদি বিয়ে করতে যান তবে খুন করা হবে! সেই হুমকি যে সত্যিই হবে তা বুঝতে পারেননি কেউই। কনের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আচমকাই জাতীয় সড়কের উপর একটা বাইক বরের গাড়ির পথ আটকায়। তার পরেই বরকে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় আততায়ীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের ১৩৫ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। মৃতের নাম আজ়াদ। এক আত্মীয়ের কথায়, ‘‘আততায়ীরা পর পর তিন বার গুলি চালায়। গুলি লাগার পরেও জ্ঞান ছিল আজ়াদের। শেষে একটা কথাই বলতে পেরেছিল, আমি আর বাঁচব না। আমরা তাঁকে দ্রুত কাছাকাছি এক হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তত ক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।’’
পরিবার সূত্রে খবর, সম্ভাব্য এই হামলার বিষয়ে তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। পুলিশকে জানানোর কথাও ভাবা হয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত বিয়ের তোড়জোড়ের মধ্যে তা আর করা হয়নি। পুলিশ মনে করছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। অভিযুক্তেরা প্রথম থেকেই বিয়ের শোভাযাত্রার উপর নজর রেখেছিলেন। কেন এই হামলা, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মনে করছে, আততায়ীদের মধ্যে কনের পরিবারের লোকেরাও ছিলেন। প্রদীপ বিন্ড এবং রবি যাদব নামে দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, এই বিয়েতে খুশি ছিলেন না প্রদীপ! ওই দুই অভিযুক্তের সঙ্গে আরও একজন হামলার সময় ছিলেন। প্রদীপ, রবির মতো ভোল রাজভর নামে আরও এক আততায়ীও পলাতক।
তিন জনের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। তাঁদের খোঁজ দিতে পারলে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে প্রদীপের। ২০১৫ সালে জৌনপুরেই এক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে জামিনে মুক্ত ছিলেন প্রদীপ।