—প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ফল কী হতে চলেছে? বিজেপি কি সত্যিই জিতবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে যাবেন?সোমবার পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হবে। কিন্তু রবিবার দিল্লিতে বিজেপি হোক বা কংগ্রেসের সদর দফতর, রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেল। তা হল, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল কী হবে?কেন্দ্রের শাসক ও বিরোধী, দুই শিবিরই মানছে সোমবার ৪ মে-র পাঁচ বিধানসভার ফল দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটের ফল। এই বিধানসভা ভোটের প্রভাব বিজেপির পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের প্রধান শরিক কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে ও বামেদের উপরে পড়তে চলেছে।
বিজেপি শিবির বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের ভরসায় ভোটে লড়ছে না। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকে সামনে রেখে ভোটে লড়ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক সম্মানও জড়িত। বিজেপির সংগঠনের দুই পোড়খাওয়া মস্তিষ্ক, ভূপেন্দ্র যাদব ও সুনীল বনসল পর্দার আড়ালে থেকে বঙ্গে বিজেপির ভাগ্য বদলের রাস্তা তৈরি করতে পেরেছেন কি না, তা-ও জানা যাবে। যদি মোদী-শাহকে সামনে রেখে লড়াইয়ে বিজেপি হেরে যায়, তা হলে লোকসভা ভোটে বিজেপির ২৪০ আসনে আটকে যাওয়ার পরে মোদী-শাহ জুটির দ্বিতীয় বড় ধাক্কা হবে। মাত্র এক পক্ষকাল আগে বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার উল্লাসও সেই হারের স্রোতে মুছে যাবে। আর যদি বিজেপি প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে, তা হলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়ার যে স্বপ্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীরা দেখতেন, তা এ বার মোদী-শাহের নেতৃত্বে পূরণ হবে। বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া ওড়িশা, বিহারের পরে পূর্ব ভারতের বাকি অংশেও ছুটবে।
অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল যদি চতুর্থ বার ক্ষমতায় ফেরে, তা হলে বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলই ছড়ি ঘোরাবে বলে বিরোধী শিবির মনে করছে। তৃণমূল নতুন করে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী শিবিরের মুখ হিসেবে তুলে ধরার দাবি তুলবে। বিরোধী জোটে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে। মে মাসেই বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠক হওয়ার কথা।এ দিকে পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনে একমাত্র কেরলেই কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিরোধী শিবির মনে করছে। কিন্তু সেখানে কংগ্রেসের জয়ের অর্থ, বিরোধী শিবিরের অন্য শরিক বামেদের হাত থেকে শেষ রাজ্যটিও চলে যাবে। ১৯৭৭ সালের পরে এই প্রথম ভারতের কোনও রাজ্যেই বামেরা ক্ষমতায় থাকবে না।
সোমবারের ভোটের ফলের আগে রবিবার দুপুরেই বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সদর দফতরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁর জাপানের লিবেরাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক ছিল। এ দিনই বিহারে বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি বিজেপির সদর দফতরে গিয়েছিলেন মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে আলোচনা করতে। কোথায় জাপান, কোথায় বিহার? সকলের কৌতূহল একটাই, বাংলার ভোট।কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র জয়রাম রমেশকে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল নিয়ে তাঁর কী মত জানতে! জয়রামকে প্রশ্ন করা হল, তিনি কি বুথ ফেরত সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ইঙ্গিতের সঙ্গে একমত?
জয়রাম উত্তর দিলেন, বুথ ফেরত সমীক্ষায় তাঁর বহুদিনই বিশ্বাস নেই। তবে বাংলায় কী হবে, তা ৪ মে-ই জানা যাবে।সোমবারের ফলের আগে খোঁজ পড়েছে, রাহুল গান্ধী কোথায়? একটি সূত্রের দাবি, তিনি ওমানের মাসকাটে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন। কংগ্রেস অবশ্য এ নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি।কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী তথা বিজেপিতে তামিলনাড়ুর ভারপ্রাপ্ত নেতা পীযূষ গয়াল বলেন, “যদি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মানুষের ভাগ্যে সুশাসনের সরকার থাকে, এমন সরকার যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথে চলবে, তা হলে এনডিএ দুই রাজ্যেই সরকার গড়বে। অসম ও পুদুচেরিতে বিজেপিই সরকার গড়বে।”
বিরোধী শিবির মনে করছে, অসমে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলেও কংগ্রেস যদি ভাল ফল করতে পারে, তা হলেই অনেক। তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে ডিএমকে ফের ক্ষমতায় ফিরবে বলেই বিরোধী শিবির আশা করছে। তবে তামিল সিনেমার মেগাস্টার ‘থলপতি’ বিজয়ের নতুন দল টিভিকে কতটা ভোট টানতে পারবে এবং ভোটের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারবে কি না, সে দিকে রাজনৈতিক শিবিরের চোখ থাকছে। টিভিকে যথেষ্ট আসন পেলে বিজয় এডিএমকে-বিজেপির জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্ট্যালিনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নও থাকছে। কারণ বিজয়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত শুরুর পর থেকেই তিনি আর বিজেপি-র বিরুদ্ধে বিশেষ মুখ খোলেননি।
কম আলোচিত হলেও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের ফলও সোমবার। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী অন রঙ্গস্বামীর দল এআইএনআরসি-র নেতৃত্বে এনডিএ জোট ফের ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে। যদিও বিরোধী শিবির মনে করছে, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট ভাল ফল করতে তার প্রভাব পুদুচেরিতেও পড়তে পারে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে