Venezuela Crisis

ভেনেজ়ুয়েলায় মাদুরো-হরণে লোকসান নেই, বরং তেলের লাভ ঘরে তুলতে পারে ভারত! মিটে যেতে পারে পুরনো দেনাও

একটা সময় পর্যন্ত প্রতি দিন প্রায় ৪ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আমদানি করত ভারত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ২০২০ সালে তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভেনেজ়ুয়েলার ঘটনা ভারতের প্রেক্ষিতে কী কূটনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এই পরিস্থিতির জেরে অর্থনৈতিক লাভ হতে পারে নয়াদিল্লির।

Advertisement

খনিজ তেলে সমৃদ্ধ ভেনেজ়ুয়েলায় বড় বিনিয়োগ ছিল ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড (ওভিএল)-এর। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, পূর্ব ভেনেজ়ুয়েলার একটি তেল উত্তোলনকেন্দ্রে অন্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করত ওভিএল। কিন্তু আমেরিকা ভেনেজ়ুয়েলার জ্বালানি রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তেল উত্তোলনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

একটা সময় পর্যন্ত প্রতি দিন প্রায় ৪ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আমদানি করত ভারত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ২০২০ সালে তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়ে দেয় ভারত। সেই সময় তেল উত্তোলনকেন্দ্রের অন্যতম অংশীদার হিসাবে ওভিএলের পাওনা ছিল প্রায় ৪৮২৫ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে ধুঁকতে থাকা ভেনেজ়ুয়েলা থেকে সেই টাকা উদ্ধার করতে পারেনি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই টাকা ফেরত পেতে পারে ওভিএল। তা ছাড়া ভেনেজ়ুয়েলার ওই তেল উত্তোলনকেন্দ্রে সংস্থাটির বহু কোটি টাকার পরিকাঠামো রয়েছে। সেগুলির অডিট না-হওয়ায় ওভিএল-এর বকেয়া টাকার প্রায় সমপরিমাণ লোকসান হয়।

Advertisement

ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, এ বার ভেনেজ়ুয়েলার তেল উত্তোলন এবং বিক্রির বিষয়টি তাঁরাই দেখবেন। এই পরিস্থিতিতে ভেনেজ়ুয়েলার তেল উত্তোলনকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পূর্ব ভেনেজ়ুয়েলার ওই তেল উত্তোলনকেন্দ্রটির পরিকাঠামো আরও উন্নত করে উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ থাকছে ওভিএল-এর সামনে। সেই তেল অন্য দেশে বিক্রি করে মুনাফা লাভের সম্ভাবনাও থাকছে।

ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে যখন লাভ-লোকসানের হিসাব চলছে, সেই সময় ভারতের এক বিশেষজ্ঞ সংস্থা (থিঙ্ক ট্যাঙ্ক) জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার ওই দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ভারতের উপর কোনও বাণিজ্যিক প্রভাব পড়বে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ২০২৫ সালে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেল আমদানি ৮১.৩ শতাংশ কমিয়েছিল ভারত। নতুন করে এই পরিমাণ আর কমবে না বলেই মত ওই থিঙ্ক ট্যাঙ্কটির কর্তাদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement