India-US Trade Pact

কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল কেনার সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার

হোয়াইট হাউসের বিবৃতি উল্লেখ করে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, ভারত থেকে যে সব পণ্য আমেরিকায় আসবে তার উপর আর অতিরিক্ত কর নেওয়া হবে না। বহাল থাকবে পারস্পরিক শুল্ক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭
Share:

(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র

ভারতীয় পণ্যের উপর আর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে না! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সংক্রান্ত আদেশনামায় সই করার পরে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দফতর এই সংক্রান্ত বিবৃতি জারি করল। কবে থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে বিবৃতিতে। এই অতিরিক্ত শুল্ক মকুবের নেপথ্যে থাকা রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয় নিয়ে আরও এক বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত।

Advertisement

হোয়াইট হাউসের বিবৃতি উল্লেখ করে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, ভারত থেকে যে সব পণ্য আমেরিকায় আসবে তার উপর আর অতিরিক্ত কর নেওয়া হবে না। ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার পরে গুদাম থেকে বার করা পণ্যের জন্য তা প্রযোজ্য। বহাল থাকবে পারস্পরিক শুল্ক। ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। সেই শুল্কই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দফতরের তরফে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে কথা শুরু করেছিল নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন। তার পর অবশ্য দীর্ঘ দিন নানা কারণে এই চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছোয়নি দু’পক্ষ। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরেই বাণিজ্য-সমঝোতা ঘোষণা করা হয়। তার পরই শুল্ক কমানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

Advertisement

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ আরোপ করেছিল আমেরিকা। তবে বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণাপত্রে দাবি করা হয়, “রাশিয়া থেকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে তেল আমদানি বন্ধ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।” আর সেই কারণেই ভারতের উপর চাপানো ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ সরিয়ে নিচ্ছে তারা। এক বার নয়, ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের কর্তারা বার বার দাবি করছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ভারত। তবে আদৌ রাশিয়া থেকে ভারত তেল আমদানি করবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি নয়াদিল্লি। তারা জানিয়েছে, ভারত তার ১৪০ কোটি জনসংখ্যার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি এখনও কিছু বলেনি ভারত। অভিযোগ, ভারত এখনও রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। দেশের অন্দরেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সংসদীয় প্যানেলকে মোদী সরকার জানিয়েছে, ভারত যে সব দেশ থেকে সস্তা এবং উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তা চালিয়ে যাবে। ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তেল কিনবে।

কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরের নেতৃত্বে বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় প্যানেলের বৈঠকে এ নিয়ে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের কর্তারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীও। সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই বৈঠক অত্যন্ত কার্যকরী ছিল। প্যানেলভুক্ত সদস্যদের সব প্রশ্নের উত্তর সবিস্তারে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের কর্তারা। বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এখনও চুক্তি সই হয়নি। তাই এখনও এ বিষয়ে দু’দেশের সরকার কাজ চালিয়ে যাবে বলে সংসদীয় বৈঠকে জানানো হয়। এই চুক্তির সূক্ষ্ম বিবরণের জন্য দেশবাসীকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement