Narendra Modi-Donald Trump Meeting

‘বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কাজ করছি আমরা’, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জানালেন, ভারত আক্রান্ত হলে পাশে দাঁড়াবে আমেরিকা

মোদীর দর কষাকষির দক্ষতার তারিফ করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর মানুষ। যেন একজন দেবদূত। কিন্তু আসলে তিনি খুবই কঠিন। তিনি একজন ভয়ঙ্কর প্রতিদ্বন্দ্বী।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ২২:১৪
Share:

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি রূপায়ণের লক্ষ্যে কাজ করছে ভারত এবং আমেরিকা। বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বঁ শহরে জি-৭ শীর্ষসম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকের পরে এ কথা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির শর্ত নিয়ে দর কষাকষির ক্ষেত্রে মোদী অত্যন্ত দক্ষ বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ঘোষণা, ‘‘নরেন্দ্র মোদীর ভারতে যদি হামলা হয়। তা হলে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়াবে আমেরিকা। যদি কেউ সেই মানুষটিকে (মোদী) আক্রমণ করে, আমরা সেখানে থাকব।’’

Advertisement

মোদীর দর কষাকষির দক্ষতার তারিফ করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর মানুষ। যেন একজন দেবদূত। কিন্তু আসলে তিনি খুবই কঠিন। তিনি একজন ভয়ঙ্কর প্রতিদ্বন্দ্বী।” বাণিজ্যের পাশাপাশি নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও এসেছে ট্রাম্পের বিবৃতিতে। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি এটি একটি দারুণ সম্পর্ক। যদি তাদের উপর আক্রমণ করা হয়, আমরা তাদের সাহায্য করতে সেখানে থাকব।’’ ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যতের কোনও এক সময়ে’ ভারত সফরে আসবেন তিনি। ভারত কয়েক মাস ধরে নয়াদিল্লিতে কোয়াড (চতুর্দেশীয় অক্ষ) শীর্ষসম্মেলন ট্রাম্পের সফরের জন্য বার্তা পাঠাচ্ছে আমেরিকায়। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘোষণা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ বলে মনে করছে কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

গত দু’সপ্তাহে হরমুজ় প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে তিনটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল মার্কিন সেনার দিকে। মঙ্গলবার মোদী ৫২তম জি-৭ বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিলেন। বুধবারের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তোলেন। হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উচিত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের পরে এই প্রথম বার মুখোমুখি হলেন মোদী ও ট্রাম্প। মধ্যবর্তী পর্যায়ে অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা, মার্কিন শুল্কনীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির খসড়ার মতো বিষয় নিয়ে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন ভিন্নমত প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলেছেন ট্রাম্প। প্রায় ১৬ মাস পরে আবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনার সঙ্গে দেখা করে আনন্দিত প্রেসিডেন্ট। আমরা গত বছর ওয়াশিংটনে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তার পর থেকে আমাদের সম্পর্কের মধ্যে একটি নতুন গতি এসেছে। একটি নতুন উদ্দীপনা রয়েছে। আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় যে আমাদের দু’পক্ষ একসঙ্গে অভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি এবং আমরা খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছি।’’ প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় যে অগ্রগতি হয়েছে তার প্রশংসা করেছেন এবং এটি স্থায়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement