দোষী সাব্যস্ত সেই দম্পতি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তাদের কারও বয়স তিন, কারও ১০, কারও আবার ১৭। এ রকম ৩৩ নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় দোষী সাব্যস্ত হলেন উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতি। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিল বান্দার এক আদালত। পকসো আইনে ওই দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে সিবিআই ওই দম্পতি-সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে শিশু এবং নাবালিকাদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন দম্পতি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নির্যাতিতাদের ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। এ ছাড়া অপরাধীদের বাড়ি থেকে যে নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি নির্যাতিতাদের পরিবারগুলির মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করে দিতে হবে।
সূত্রের খবর, নাবালিকাদের যৌন হেনস্থা করে তাদের ছবি এবং ভিডিয়ো লাখ লাখ টাকায় ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে বিক্রি করতেন দম্পতি। তদন্তে উঠে এসেছে, নাবালিকাদের উপর শারীরিক অত্যাচারও চালানো হত। অনেক নাবালিকার যৌনাঙ্গে মারাত্মক ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আক্রান্তদের অনেকেই কয়েক বছর ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, অত্যাচারের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কারও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তাদের মধ্যে অনেকে এখনও সেই মানসিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তদন্তকারী সূত্রে খবর, ওই দম্পতি মূলত দু’টি জায়গা থেকে এই কাজ পরিচালনা করতেন। একটি হল বান্দা। অন্যটি চিত্রকূট। ২০১০ সাল থেকে টানা ১০ বছর ধরে এই কাজ করছিলেন দম্পতি। তাঁদের নেটওয়ার্কের জাল উত্তরপ্রদেশ ছাড়িয়ে অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
২০২০ সালে সিবিআই তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে নেমে বান্দার এই দম্পতির হদিস পান আধিকারিকেরা। তার পরই এই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। গোপন সূত্রে খবর আসে বান্দা এবং চিত্রকূটে নাবালিকাদের যৌন হেনস্থা চলছে। মূলত তিন থেকে ১৬ বছরের মেয়েদের বান্দা এবং চিত্রকূট এলাকা থেকে নানা ভাবে প্রলুব্ধ করে তুলে নিয়ে এসে যৌন হেনস্থা করা হত। শুধু তা-ই নয়, যে ঘরে অত্যাচার চালানো হত, সেই ঘরে নানা রকম ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস উদ্ধার হয়। তার মধ্যে ভিডিয়ো এবং ছবি উদ্ধার হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সেই ছবি, ভিডিয়ো ডার্ক ওয়েবে প্রচুর টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন দম্পতি। বিদেশেও এই ছবি এবং ভিডিয়ো পাঠানো হত। তদন্তকারীরা প্রাথমিক ভাবে ৩৩ জন নির্যাতিতাকে চিহ্নিত করেছেন। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, নির্যাতিতাদের বয়স চার থেকে ২২ বছর। এই ঘটনায় দিল্লি থেকেও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের সেচ দফতরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র পদে কর্মরত ছিলেন।