উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। —ফাইল চিত্র।
শ্রমিক বিক্ষোভে সোমবার উত্তাল হয়েছিল নয়ডা। এ বার শ্রমিকদের দাবিদাওয়া এবং ক্ষোভের কথা শুনলেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা। সোমবার মধ্যরাতে নয়ডায় একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গঠিত কমিটির সদস্যেরা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই বৈঠকে যোগ দেয়।
বৈঠকে একগুচ্ছ দাবিদাওয়ার কথা জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মাসিক বেতন ১০-১৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৮-২০ হাজার করা, সপ্তাহে নির্দিষ্ট এক দিন ছুটি দেওয়া, অতিরিক্ত সময় কাজ করলে (ওভারটাইম) মজুরি বৃদ্ধি করা। এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ভাল পরিবেশ, সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা জানতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে যোগ দেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সরকারের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনও শ্রমিক সংগঠন এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে না। বৈঠক প্রসঙ্গে জেলাশাসক মেধা রূপম বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই। আলোচনার পর আমরা আমাদের প্রস্তাব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারকে পাঠাব। শিল্পক্ষেত্রে শান্তি এবং সুস্থিতির পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখা হবে।’”
সোমবার বিকেলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের দফতর থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, আদিত্যনাথের নির্দেশে শ্রম দফতর এই কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয় উত্তরপ্রদেশের শিল্প উন্নয়ন কমিশনারকে। পাশাপাশি সে রাজ্যের ছোট মাঝারি এবং কুটির শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান দফতরের প্রধানসচিবকেও রাখা হয় এই কমিটিতে। আদিত্যনাথের দফতর জানিয়েছে, কমিটিতে শ্রমিক সংগঠনগুলির পাঁচ জন প্রতিনিধি এবং মালিকপক্ষের সংগঠনগুলির তিন জন প্রতিনিধি থাকবেন।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে সোমবার সকাল থেকে দৃশ্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয় নয়ডার ফেজ় ২ এলাকায়। রাস্তা অবরোধ হয়। গাড়ি ভাঙচুর হয়। অগ্নিসংযোগও হয় গাড়িতে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় দিল্লির সঙ্গে নয়ডার সংযোগকারী রাস্তা। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সোমবারের এই বিক্ষোভের ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনের গ্রেফতারির খবর মিলেছে।
এই বিক্ষোভ ঘিরে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হতেই সতর্ক করে দেন আদিত্যনাথ। সোমবারই তিনি জানিয়ে দেন, আন্দোলন এবং প্রতিবাদের নামে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে এ-ও দাবি করেন, সে রাজ্যের উন্নয়নকে থমকে দিতে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের যে উপযুক্ত বেতন পাওয়া উচিত, তা-ও জানান আদিত্যনাথ।