অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় মুখ খুললেন মমতা এবং শমীক। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি লেখেন, ‘‘শাসকই ঘাতকে পরিণত হয়েছে।’’ একই সুরে সুর মিলিয়ে সোনারপুরের ঘটনার নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। একই সঙ্গে তাঁরা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। প্রশ্ন তুললেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। অন্য দিকে, হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
অভিষেকের উপর হামলার অভিযোগ নিয়ে এক্স পোস্ট করেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি লেখেন, ‘‘অভিষেকের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করল যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক, হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।’’ তার পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অখিলেশ। তিনি লেখেন, ‘‘এমন একটা সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের অনুপস্থিতি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।’’
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন খড়্গেও। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘অভিষেকের উপর মর্মান্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’’ তার পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বিরোধী নেতার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষার অভাব বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতির কথাই বলে দেয়।’’ খড়্গের আর্জি, ‘‘কেন্দ্রীয় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবশ্যই সব বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের হামলা আটকানোর জন্য পদক্ষেপ করতে হবে সরকারকে।’’ বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনওই কোনও ধরনের সহিংস ঘটনার রূপ দিতে পারে না।
অভিষেকের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছে বিজেপি-ও। শমীক সকলকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি এ-ও বলেন, “পুলিশ কেন নেই, সেটা তো আমি বলতে পারি না। আমি তো দলের প্রতিনিধি। সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলতে পারবে।” অতীতে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন উত্তরবঙ্গে তাঁকে গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। শমীক আরও বলেন, “তৃণমূল আমাদের কর্মীদের সঙ্গে যে অত্যাচার করেছে, আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।” তৃণমূল সরকারের জমানার বেশ কিছু ‘উদাহরণ’ও তুলে ধরেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
অভিষেকের উপর হামলা ‘কাম্য নয়’ বলেও তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “উনি (অভিষেক) শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন, কোন বাপ আছে দেখে নেবেন। সেটাও যেমন গণতন্ত্রে উচিত নয়, আজকের ঘটনাও কাম্য নয়।’’ তবে সেলিম মনে করেন, ‘‘বিজেপি-আরএসএস চাইবে নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রেখে দিতে। এটা তেমন কৌশল হলেও হয়ে থাকতে পারে।”
শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যান অভিষেক। তবে এলাকায় পৌঁছোতেই তাঁর উপর ‘হামলা’ হয়। নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। ভেঙে দেওয়া হয় সেই বাইকটি। অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায়। ভেঙে যায় চশমাও। সেই ঘটনা নিয়ে সরব তৃণমূল। নিন্দা সিপিএম-কংগ্রেস-এসপি-র। শান্ত থাকার বার্তা বিজেপির।