—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
দিল্লির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকছে বাংলা। সরকার ‘পরিবর্তন’ হলেও এই নিয়মের পরিবর্তন হল না।
কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান ও করের ভাগ—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় পশ্চিমবঙ্গের এই দুইয়ের উপরে বেশি-রকম নির্ভরশীলতা নিয়ে ষোড়শ অর্থ কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এ বার বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে দেখা গেল, নির্ভরশীলতা আরও বেড়েছে। রাজ্যে ঋণের বোঝা কমাতেও কেন্দ্রের উপরেই নির্ভর করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
গত অর্থ বছর বা তৃণমূল সরকারের শেষ বছরে রাজ্যের মোট রাজস্ব আয়ের ৫২ শতাংশ কেন্দ্রীয় অনুদান ও করের ভাগ থেকে এসেছিল। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট বলছে, রাজ্যের রাজস্ব আয়ের ৫৬ শতাংশ কেন্দ্রীয় অনুদান ও করের ভাগ থেকে আসছে। অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ পানাগড়িয়ার নেতৃত্বে ষোড়শ অর্থ কমিশন এ নিয়ে চিন্তার কথা জানিয়েছিল। কারণ, গড়পরতা রাজ্যের রাজস্ব আয়ের ৪২% কেন্দ্রীয়অনুদান ও করের ভাগ থেকে আসে।পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রের উপরে নির্ভরশীলতা তার থেকে অনেক বেশি।
তার থেকেও বড় কথা, কেন্দ্রীয় অনুদানের ভরসাতেই রাজ্যের ঘাড়ে বাম আমল থেকে চেপে থাকা ঋণের বোঝা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। গত অর্থ বছরের তুলনায় এ বার কেন্দ্রীয় অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে। ফলে রাজ্যের মোট ৩ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয়ের মধ্যে কেন্দ্রের থেকে অনুদানের পরিমাণ ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে কেন্দ্রের করের ভাগ হিসেবে রাজ্য পাবে ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, রাজ্যের মোট রাজস্ব আয় ৩ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকার প্রায় ৫৬ শতাংশ বা ১ লক্ষ ৮১ হাজার কোটি টাকাই কেন্দ্রের থেকে আসবে।
বাজেটের আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যকে আর্থিক ভাবে যেখানে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হবে। তার পরে সীতারামনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ঘাড়ে ঋণের বোঝা কমানোই বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হবে।
সোমবার বাজেটের গোড়াতেই স্বপন বলেছেন, রাজ্যের ঘাড়ে চেপে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। এই ঋণের বোঝা কমাতে দু’টি উপায়ের কথা বলেছেন। এক, কেন্দ্রের সাহায্য। দুই, আর্থিক সংস্কার। বাজেটের পরিসংখ্যান বলছে, কেন্দ্রের সাহায্যই তাঁর প্রধান সহায় হয়ে উঠেছে। গত অর্থ বছরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অনুদান বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা মতো পেয়েছিল রাজ্য। এ বার তা বেড়ে ৭১ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে যাচ্ছে। কারণ, যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প তৃণমূল জমানায় বন্ধ ছিল বা রাজ্য তা রূপায়ণ করেনি, এ বার সেই খাতে অর্থ ঢুকবে।
কেন্দ্রের অর্থের ভরসাতেই প্রথমে রাজস্ব ঘাটতি ও রাজকোষ ঘাটতি ছাঁটাইয়ে হাত দিয়েছে বিজেপি সরকার। গত অর্থ বছরে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি। রাজ্যের জিডিপি-র ২.০৭%। তা কমিয়ে ২২ হাজার কোটি টাকার নীচে বা ১.০২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছেন স্বপন। কেন্দ্রের গণ্ডি মেনে রাজকোষ ঘাটতিও ৩ শতাংশের কম করার লক্ষ্য বেঁধেছেন। তাঁর হিসাবে, রাজ্যের জিডিপি-র নিরিখে মোট ঋণের পরিমাণ ৩৮.২৯% থেকে ৩৭.৯৮%-এ নেমে আসবে। যদিও পুরনো ঋণে সুদের বোঝা এখনই কমছে না।
সীতারামনের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকে পরিকাঠামোয় খরচের জন্য মোদী সরকার গত তিন বছর ধরে রাজ্যগুলিকে যে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এই খাতে রাজ্যগুলিকে বিনা সুদে ৫০ বছরের জন্য ঋণ দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ গত তিন বছরে এই খাতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। চলতি অর্থ বছরে কেন্দ্রের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করে রাজ্য ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ছাড়াও রাজ্যের বাজেটে বিমানবন্দর থেকে আইআইটি, আইআইএম-এর মতো যে সব নতুন ঘোষণা হয়েছে, তার খরচও কেন্দ্রই বহন করবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে