Apache AH-64E

আমেরিকা থেকে আর যুদ্ধ-কপ্টার অ্যাপাচে কিনবে না ভারত, কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের?

ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৬৮টি অ্যাপাচে সরবরাহ দ্রুত করার জন্য অনুরোধ করছেন। কিন্তু নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বরাত দেওয়া হয়েছিল ২৮টি কপ্টারের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৬
Share:

অ্যাপাচে ‘অ্যাডভান্সড অ্যাটাক হেলিকপ্টার’। ছবি: সংগৃহীত।

প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং স্থলসেনার জন্য আরও মার্কিন ঘাতক হেলিকপ্টার ‘অ্যাপাচে এএইচ ৬৪ই’ কেনা হবে। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চলেছে বলে ‘ইন্ডিয়া টুডে’তে প্রকাশিত খবরে দাবি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের সঙ্গে শুল্ক-সংঘাত কিংবা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা নয়, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান অনুসরণ করে ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধ হেলিকপ্টার বানানোর কর্মসূচি শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড’(হ্যাল)। বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য হালকা হেলিকপ্টার (অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার বা এএলএইচ) ‘ধ্রুব’ এবং ‘লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার’ (এলসিএইচ) ‘প্রচণ্ড’ প্রকল্প ইতিমধ্যেই সাফল্য পেয়েছে হ্যাল। এ ক্ষেত্রেও তাদের উপরেই ভরসা রাখতে চলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। চড়া মূল্যের অ্যাপাচের চেয়ে দামে তার দেশীয় বিকল্প অনেকটাই সস্তা হবে। তা ছাড়া আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় কার্যকরী ভূমিকার জন্য খ্যাতি পেলেও আর আগে ইরাক যুদ্ধের সময় শহরের আকাশে লড়াইয়ে অ্যাপাচের নানা খামতি ধরা পড়ে। প্রথমে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী পরবর্তী সময় বিদ্রোহীদের হানায় বেশ কয়েকটি মার্কিন কপ্টার ধ্বংস হয়েছিল।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ২২টি অ্যাপাচে ‘অ্যাডভান্সড অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ কেনা হয়েছিল। এর পরে ২০২০ সালে আর্মি অ্যাভিয়েশন কোরের (স্থলসেনার বিমান শাখা) জন্য ছ’টি অ্যাপাচে কেনার চুক্তি হয়। গত বছরের এপ্রিলে পাওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের দেশ থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনটি কপ্টার এসেছিল। এর পরে গত ডিসেম্বরে আসে বাকি তিনটি। পরবর্তী ধাপে আরও অ্যাপাচে নয়াদিল্লিকে সরবরাহ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়াশিংটন। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৬৮টি অ্যাপাচে সরবরাহ দ্রুত করার জন্য অনুরোধ করছেন। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, ২৮টিতে সাঙ্গ হয়েছে অ্যাপাচে আমদানি।

Advertisement

‘অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই’ হেলিকপ্টারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮৪ কিলোমিটার। লেজ়ার-চালিত হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, ৭০ মিলিমিটার রকেট, ৩০ মিলিমিটার স্বয়ংক্রিয় কামান (অটোক্যানন) রয়েছে এই কপ্টারে। প্রয়োজনে মিনিটে ২৮০০ ফুট উচ্চতায় উঠে যেতে পারে আমেরিকায় তৈরি এই যুদ্ধ-কপ্টার। ভারতের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বায়ুসেনা ওই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। এই কপ্টারের ডিজিটাল ককপিট রয়েছে। শত্রুপক্ষকে নিশানা করে অ্যাপাচে মিনিটে ১২৮টি নিশানায় গুলি ছুড়তে পারে। এতে হাইড্রো রকেট ছোড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এয়ার-টু-এয়ার স্ট্রিংগার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তেও সক্ষম অ্যাপাচে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তার সমকক্ষ কপ্টার নির্মাণ করার কঠিন দায়িত্ব এ বার হ্যালের কাঁধে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement