গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মালদে সোরেন। ছবি: সংগৃহীত।
রুজির টানে গভীর জঙ্গলে গিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। পাতা এবং কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হঠাৎ বন্যজন্তুদের আক্রমণের মুখে পড়লেন স্বামী। বিপদের মুখে পড়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেননি স্ত্রী। বরং স্বামীকে ভালুকদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে নিজেই মুখোমুখি হলেন তাদের। কুড়ুল হাতে ওড়িশার জঙ্গলে ভালুকদের সঙ্গে লড়ে স্বামীকে মৃত্যুর হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছেন স্ত্রী। যদিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। অল্প আঘাত পেয়েছেন স্ত্রী।
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার করণজিয়ার মিলু গ্রামের বাসিন্দা মালদে সোরেন এবং লিলি সোরেন। গাছের শুকনো পাতা, কাঠ ইত্যাদি বিক্রি করেই সংসার চলে সোরেন দম্পতির। মঙ্গলবারও স্বামী-স্ত্রী গিয়েছিলেন করণজিয়ার জঙ্গলে।
পাতা, কাঠ কুড়িয়ে ফেরার সময় হঠাৎ ছ’টি ভালুক ঘিরে ধরে মালদেকে। তাদের একটি এগিয়ে গিয়ে আদিবাসী যুবককে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকেন। স্বামীর কয়েক হাত পিছনে ছিলেন লিলি। এমন বিপদের মুখে পড়ে তিনি কুড়ুল নিয়ে তেড়ে যান ভালুকদের দিকে। ‘যুদ্ধে’ জখম হয় আক্রমণকারী ভালুকটি। পিছু হঠে ভালুকদের দল।
এর পর প্রায় একাই রক্তাক্ত স্বামীকে জঙ্গল থেকে বার করে নিয়ে যান লিলি। গ্রামে খবর ছড়াতেই হইহই শুরু হয়ে যায়। জখম দম্পতিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মালদের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে কেওনঝড়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ওড়িশা বন দফতর খোঁজখবর করে দম্পতির।