আদালতে হাজির করানো হয় ধৃত ওমর ফারুক ব্যাপারিকে। —নিজস্ব ছবি।
ভারতীয় প্রৌঢ়কে ‘বাবা’ বলে দেখিয়ে নথিপত্র তৈরি করেছিলেন। তার পর বছরের পর বছর এ দেশে থেকে গিয়েছেন। বাংলাদেশি সন্দেহে এমনই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কোচবিহারের দিনহাটার ঘটনা।
ধৃতের নাম ওমর ফারুক ব্যাপারি। দীর্ঘ দিন ধরে কোচবিহারের দিনহাটার চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতে বসবাস করছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিককে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিয়ে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ বিভিন্ন নথি এবং পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন। নকল নথিপত্র দিয়ে এ দেশে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা। বিতর্ক নয়া মাত্রা পায় এসআইআর আবহে।
এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা করেছিলেন অভিযুক্ত। তার পরেই স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এ নিয়ে থানাতেও একটি অভিযোগ দায়ের হয়।
শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে ভারতে থেকে যাওয়াই নয়, ওমর শাসকদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আবার বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর জওয়ানও ছিলেন!
পুলিশ দীর্ঘ দিন ধরে ওমরকে খুঁজছিল। শেষমেশ মঙ্গলবার রাতে দিনহাটার পুটিমারি এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ১০-১২ বছর আগে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেন ওমর। তার পর দিনহাটা-২ ব্লকের চৌধুরীহাটে বসবাস করছিলেন। এসআইআর আবহে বাংলাদেশের আনসার বাহিনীর পোশাক পরা এবং বন্দুক হাতে ওমরের একটি ছবি সমাজমাধ্যমের পাতায় দেখা যায়। সেখান থেকে বিতর্কের শুরু।
বুধবার আদালতে হাজির করানোর সময়েও ওমর দাবি করেছেন, তিনি ভারতীয়। রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েছেন তিনি। ওমরের কথায়, ‘‘আমি ভারতীয় নাগরিক। এখানেই আমার পরিবার রয়েছে। এক সময়ে তৃণমূল করতাম। এখন করি না। তাই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।’’
ওমরের গ্রেফতারি এবং দাবি প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ জানিয়ে দেন, ওই ব্যক্তি তৃণমূলের কেউ নন। কোনও পদেও ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘‘ওমর ফারুক ব্যাপারি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন। আইন আইনের পথে চলবে। কেউ যদি বাংলাদেশি হয়ে এখানে গা-ঢাকা দিয়ে থাকেন, তা-হলে পুলিশ তো তাঁকে গ্রেফতার করবেই।’’ অন্য দিকে, জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছি, ওমর বাংলাদেশি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারাও ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। চাপে পড়ে পুলিশ ওঁকে গ্রেফতার করেছে। তৃণমূলও চাপে পড়ে ওঁর সঙ্গে দলের যোগের কথা অস্বীকার করছে।’’
বাংলাদেশি সন্দেহে ওই গ্রেফতারি নিয়ে দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র জানান, তদন্ত চলছে। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ ওঁকে আজ আদালতে হাজির করায়। ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, উনি বাংলাদেশি। তার ভিত্তিতেই ওঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। গতকাল (মঙ্গলবার) তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’