DMK on North Indian Women

উত্তর ভারতে মেয়েদের শুধু ঘরে বসিয়ে রাখা হয়! তামিলনাড়ুতে নারী ক্ষমতায়ন বোঝাতে গিয়ে মন্তব্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

দেশে ‘হিন্দি আধিপত্যের’ বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সুর চড়িয়ে আসছেন স্ট্যালিন। তা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময়ে উত্তর ভারতের বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির প্রসঙ্গও টেনেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের নেতারা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৯
Share:

ডিএমকে সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারান। —ফাইল চিত্র।

তামিলনাড়ুতে নারী ক্ষমতায়নের কথা বোঝাতে গিয়ে উত্তর ভারতের প্রসঙ্গ টানল ডিএমকে। উত্তর ভারতে মেয়েদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়। বলা হয়, শুধু রান্না করো এবং সন্তান প্রসব করো। সম্প্রতি এমনটাই মন্তব্য করেছেন ডিএমকে সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারান। এম কে স্ট্যালিনের দলের নেতার এমন মন্তব্যে বিতর্কও দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপিশিবির।

Advertisement

চেন্নাই সেন্ট্রালের চার বারের সাংসদ দয়ানিধি এক কলেজে ছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তৃতা করছিলেন। ছাত্রীদের ল্যাপটপ বিতরণের ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যালিনপুত্র তথা উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধিও। ওই ম়ঞ্চ থেকে দয়ানিধি বলেন, “আমাদের মেয়েরা এর পরে (চাকরির) ইন্টারভিউতে যান বা স্নাতকোত্তরের পড়াশোনার জন্য যান— এই ল্যাপটপ পেয়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী এবং গর্বিত হওয়া উচিত। এটা তামিলনাড়ুর সেই আত্মবিশ্বাস, যেখানে মেয়েদের পড়াশোনার কথা বলা হয়। উত্তরে (উত্তর ভারতে) ওরা কী বলে? ওরা বলে, ‘কাজে যেয়ো না। ঘরে বসে থাকো। রান্নাঘর সামলাও। সন্তানপ্রসব করো। এটাই তোমার কাজ।’ কিন্তু এটা তামিলনাড়ু। এই মাটি কলাইনর (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত এম করুণানিধি), আন্না (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিএন আন্নাদুরাই) এবং এমকে স্ট্যালিনের মাটি।”

কলেজছাত্রীদের উদ্দেশে ডিএমকে সাংসদ আরও বলেন, “তোমাদের এগিয়ে যাওয়া মানে তামিলনাড়ুর এগিয়ে যাওয়া। এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা চেন্নাইয়ে আসে। কারণ, এখানে সকলেই শিক্ষিত, শুধু তামিল ভাষায় নয়, ইংরেজিতেও।” বস্তুত, দেশে ‘হিন্দি আধিপত্যের’ বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে সুর চড়িয়ে আসছেন স্ট্যালিন। তা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময়ে উত্তর ভারতের বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলির প্রসঙ্গও টেনেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের নেতারা। জাতীয় শিক্ষানীতির বিপরীতে হেঁটে তামিলনাড়ুতে নিজস্ব শিক্ষানীতিও প্রকাশ করেছে স্ট্যালিন সরকার। সেখানেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুই ভাষাকেই— তামিল এবং ইংরেজি।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে ডিএমকে সাংসদের মন্তব্য বিজেপির সঙ্গে তাদের সংঘাতকে আরও প্রকট করল বলে মনে করা হচ্ছে। দয়ানিধির মন্তব্যের পরে পাল্টা দিয়েছে বিজেপিও। ডিএমকে নেতা উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের অপমান করার জন্যই এমন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ পদ্মশিবিরের। তামিলনাড়ু বিজেপির মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি বলেন, “দয়ানিধি মারান ফের উত্তর ভারতের মানুষকে অপমান করেছেন। এই ধরনের লোকেরা কী ভাবে এমন কথা বলার সুযোগ পান, তা ভেবেই আমার খারাপ লাগছে। যদিও ডিএমকে-তে এটা প্রায় রোজই হয়ে থাকে। দয়ানিধি মারানের কোনও সাধারণ বোধবুদ্ধি আছে বলে আমি মনে করি না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement