শ্রমিকদের সঙ্গে শান্ত করার চেষ্টা পুলিশের। ছবি: পিটিআই।
বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে না কেন? এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার এক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছিল। সোমবার সেই বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। রাস্তা অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। ফলে বিপুল যানজটের সৃষ্টি হয়ে দিল্লি-নয়ডা সীমানায়। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে গিয়েছে। প্রথমে পুলিশ এসে অবরোধ তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু শ্রমিকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে।
নয়ডায় অশান্তির ঘটনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার রাতেই তিনি লখনউয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, নয়া শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া উচিত কারখানা কর্তৃপক্ষের। সঙ্গে তিনি এটাও নির্দেশ দিয়েছেন, যাঁরা এই ধরনের অশান্তিতে শ্রমিকদের উস্কেছেন, তাঁদের খুঁজে বার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের হিংসার আড়ালে আবার নকশালপন্থাকে আবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ফেজ় ২ এলাকার সেক্টর ১ এবং ৮৪-তে মূলত শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন সোমবার সকাল থেকে। শ্রমিকদের অনেকে রাস্তা অবরোধ করেন। তার পরই ছবিটা পুরো বদলে যায়। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের হটাতে এলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও পুলিশ আসে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকেরা ইট, পাথর ছুড়তে শুরু করে। পাল্টা পুলিশও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা পুলিশের গাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালান। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল নয়ডার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা ছুটে আসেন। শ্রমিকদের আশ্বাস দেন, তাঁদের দাবি মেটানোর দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।
গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভের আঁচে একটু একটু করে উত্তপ্ত হচ্ছিল নয়ডা। এক কারখানার শ্রমিকেরা দাবি জানান, তাঁদের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। কাজের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তিন দিন ধরে এই দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন শ্রমিকেরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হরিয়ানা সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে। ফলে শ্রমিকদের মাসিক বেতন ১১,২৭৪ টাকা থেকে ১৫,২২০ হয়েছে। সেই আঁচ নয়ডার কারখানাতেও এসে পৌঁছয়। শ্রমিকেরা তাঁদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে সরব হন। অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ কোনও রকম জবাব না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়।