তখন যেন চাঁদের হাট বসে গেছে কলেজের গেটের সামনে! কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যম, ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের অতিরিক্ত সচিব সি কে মিশ্র। আরও কত নাম। ভিতরে ঢোকার অনুমতি না পেয়ে কলেজের গেটে দাঁড়িয়েই ফেলে যাওয়া বছরগুলো নিয়ে কথা বলছিলেন সকলে। আর পুরনো স্মৃতির ভিড় ঠেলে বারবার উঠে আসছিল ‘রোহতাসজি’র কথা।
রোহতাসজি। দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের ধাবা-মালিক। সোজা বাংলায় কলেজ ক্যান্টিনের মালিক। কলকাতার কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের ‘রাখালদা’ যেমন, তেমনই সেন্ট স্টিফেন্সে রোহতাসজি। বছর আটেক আগে রাখালদা ওরফে রাখালচন্দ্র ঘোষের স্মরণসভায় যোগ দিতে একই ভাবে জড়ো হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সাংসদ প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিরা। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, শুধু সিঙাড়া, কাটলেট আর চায়ের দৌলতে নয়, রাখালদা জনপ্রিয় ছিলেন অন্য কারণেও। উত্তাল ষাট-সত্তরের দশকে কত ছাত্র যে তাঁর কাছ থেকে কত সাহায্য পেয়েছেন, এমনকী প্রাণেও বেঁচেছেন, সেই সে দিন গল্পই শুনিয়েছিলেন ওঁরা।
রোহতাসজি মারা গিয়েছেন গত ২ ফেব্রুয়ারি। কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে এত জনপ্রিয় ছিলেন যে শনিবার সেন্ট স্টিফেন্সের প্রাক্তনীদের ডাকা তাঁর স্মরণসভায় যোগ দিতে দিল্লির বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিলেন। যাঁদের অনেকেই আজ তারকা। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে তাঁদেরও স্মরণসভায় ঢোকার অনুমতি দেননি অধ্যক্ষ! আচমকাই এক নির্দেশিকা জারি করেন ভালসন থামপু জানিয়ে দেন, কাউকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। যদিও এ রকম কোনও নির্দেশ সত্যিই দেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। রামচন্দ্র গুহ পরে আনন্দবাজারকে বলেন, ‘‘এটা তেমন কোনও বড় ব্যাপার নয়। ছোট ঘটনা। পরে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।’’ কিন্তু বিতর্ক থামেনি।
বহু বছর ধরে সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের ক্যান্টিনের দায়িত্বে থাকা রোহতাস নিজের ব্যবহারের জন্যই ছেলেমেয়েদের কাছে ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। এমনকী প্রেমে আঘাত পাওয়াকেও কাছে ডেকে বোঝাতেন ভাল-মন্দ! সঙ্গে ছিল হাতের জাদু। যার দৌলতে কলেজ ক্যান্টিনে বহু বছর আগে খাওয়া সিঙাড়া, গোলাপজামুন বা লেবুর সরবতের স্বাদ যে অনেকে ভোলেননি, তা দিব্যি বোঝা গেল! কলেজের অঙ্কের অধ্যাপিকা নন্দিতা নারিনের কথায়, ‘‘এতটাই ওঁর জনপ্রিয়তা যে দিল্লির বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিলেন এ দিন।’’