জায়গাটার নাম গর্দানিবাগ। আজ সকাল থেকেই সেখানে লাইন। চুল আর নখ কাটাতে!
না, পটনার এই এলাকায় কোনও নতুন সেলুন বা বিউটি পার্লার তৈরি হয়নি। তবে ম্যারাপ বেঁধে তৈরি হয়েছে জেডিইউয়ের ‘ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র’। লাইন সেখানেই। মূলত দলীয় নেতা-কর্মীদেরই ভিড়। সার দিয়ে বসে কয়েক জন নাপিত। কারও হাতে কাঁচি, কারও পাশে রাখা নরুন। যিনি যেমন নমুনা দিতে চান, তেমনই সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পর নাম-ধাম লিখে সেই চুল বা নখের নমুনা ছোট প্যাকেটে ভরে রাখা হচ্ছে বাক্সে।
এমন ৫০ লক্ষ নমুনা দিল্লি পাঠাতে চান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নির্দিষ্ট করলে, পাঠাতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঠিকানায়।
সম্প্রতি মুজফ্ফরপুরে দলীয় সভায় নাম না করে নীতীশকে উদ্দেশ করে মোদী বলেছিলেন, ‘‘ওঁর রাজনীতির ডিএনএ-তে গোলমাল রয়েছে।’’ ওই কথা ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে মোদীকে খোলা চিঠি লেখেন নীতীশ। প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে সাড়া তো আসেইনি, উল্টে দিন দুয়েক আগে মোদীর গয়া সফরে সেই তরজার পারদ আরও চড়ে। এর পরেই ‘শব্দ ওয়াপসি’ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন নীতীশ। তাঁরা ঠিক করেন, রাজ্য থেকে আপাতত ৫০ লক্ষ মানুষের ডিএনএ-র নমুনা মোদীকে পাঠানো হবে। সেই লক্ষ্যেই ‘ডিএনএ সংগ্রহ শিবির’। দলীয় নেতা অশোক কুমারের ব্যাখ্যা, ‘‘নীতীশ কুমারের ডিএনএ মানে তো বিহারের ডিএনএ। আর সেই ডিএনএ-কে খারাপ বলেছেন নরেন্দ্র মোদী। বিহারের মানুষ তাই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।’’
কিন্তু যতটা আশা করা গিয়েছিল, তত কি লোক হল শিবিরে? জেডিইউ সূত্রেরই বক্তব্য, আজ দুপুর একটা পর্যন্ত মেরেকেটে শ’পাঁচেক নমুনা জমা পড়েছিল। দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে যতটা ‘জোশ’ ছিল, ততটা সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি। কথা হল মুসরি এলাকা থেকে আসা মালতী সিংহের সঙ্গে। চুলের নমুনা দিয়েছেন তিনি। কেন দিলেন? ৩৫ বছর বয়সী মালতীর উত্তর, ‘‘আমি ঠিক জানি না ডিএনএ কী। তবে মোদীজি আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে গালি দিয়েছেন, এটা বলতে পারি। তার প্রতিবাদেই এই নমুনা নেওয়া হচ্ছে।’’
প্রকাশ্যে জেডিইউ নেতৃত্বের দাবি, সারা দিনে প্রায় পাঁচ হাজার নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের ভিড় তেমন না হওয়ায় ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নীতীশ। দলের নেতাদের নিজের বাসভবনে ডেকে পাঠান তিনি। সেখানে তাঁর প্রচারের দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত কিশোর সকলকে আরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেন। ঠিক হয়েছে আগামী ১৩ অগস্ট প্রতিটি জেলা সদরে ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করা হবে। দলের মুখপাত্র সঞ্জয় সিংহের অবশ্য যুক্তি, ‘‘আজ তো আন্দোলনের সূচনা হল। আগামী দিনে আরও শিবির হবে।’’
বিজেপির কটাক্ষ অবশ্য জারি। রাজ্য নেতা সুশীল মোদী বলেছেন, ‘‘সাধারণত অপরাধীদের ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাটক করছেন নীতীশ।’’ ইতিমধ্যে সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরেও শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। গত ২৭ জুলাই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আমির সুভানির জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জেলাশাসক থেকে বিডিও, সকলকেই স্বাধীনতা দিবসের সকালে কোনও মহাদলিত গ্রামে গিয়ে জানাতে হবে, সরকার কী কী প্রকল্প হাতে নিয়েছে।’