বিহারে পঞ্চম দফা

দুই জোটের আতঙ্ক তৃতীয় পক্ষ

তৃতীয় পক্ষ। বিহার ভোটের পঞ্চম দফায় দুই বড় জোটের মাথাব্যথার কারণ এটাই। কারণ, এই দফায় সরাসরি বিজেপি জোটের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে না লালু-নীতীশ-কংগ্রেসের।

Advertisement

দিবাকর রায়

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৫ ০৪:১১
Share:

তৃতীয় পক্ষ। বিহার ভোটের পঞ্চম দফায় দুই বড় জোটের মাথাব্যথার কারণ এটাই। কারণ, এই দফায় সরাসরি বিজেপি জোটের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে না লালু-নীতীশ-কংগ্রেসের। কিন্তু তৃতীয় মঞ্চ বা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মতো খেলোয়াড়েরা এই দফায় তাঁদের বিপাকে ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন দুই জোটের নেতারা। আগামী বৃহস্পতিবার বিহারে পঞ্চম দফায় ৫৭টি আসনে ভোট হবে। রাজ্য-রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী সরকার কারা গড়বে তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই শেষ দফার ভোটের উপরে। আজ শেষ হয়েছে এই দফার প্রচার।

Advertisement

১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ভোট পর্বের গত চারটি দফায় সরাসরি বিজেপি জোট বনাম নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের লড়াই হলেও শেষ দফায় কোথাও সোজাসুজি লড়াই হচ্ছে না। আর তা নিয়েই কিছুটা হলেও চিন্তায় রয়েছেন দুই বড় জোট নেতৃত্বই। তাঁদের মতে, বেশ কিছু আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের বেগ দিতে পারেন। বিপাকে ফেলতে পারেন তৃতীয় মঞ্চের প্রার্থীরাও। তাঁরা নিজেরা জিতবেন এমন সম্ভাবনা প্রবল নয়। কিন্তু ভোট কেটে দুই জোটের যাত্রাভঙ্গ করতে পারেন।

বিহারের কোশী, সীমাঞ্চল এবং মিথিলাঞ্চলের ন’টি জেলার ৫৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট কাটার এই লড়াইয়ে বড় দুই খেলোয়াড় হলেন পাপ্পু যাদব এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। প্রথম জন এই এলাকায় জাতপাতের রাজনীতিতে যাদব ভোটের একটি অংশকে নিজের দিকে টানতে সক্ষম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কোশী এলাকার প্রায় সমস্ত আসনে প্রার্থী দিয়েছেন জন অধিকার পার্টির নেতা সাংসদ পাপ্পু যাদব। বেশ কয়েকটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা যে জাতের পাপ্পুর দলের প্রার্থীও সেই জাত থেকেই দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও মহাজোটের মূল ভোটব্যাঙ্ক যে জাতের জোটের তরফে সেই জাতের প্রার্থী দেওয়া হয়নি। কিন্তু পাপ্পু যাদব সেখানে জোটের মূল ভোটব্যাঙ্কের জাত থেকেই প্রার্থী বেছেছেন।

Advertisement

আবার ওয়াইসি তাঁর চড়া সুরের রাজনীতিতে মুসলিম ভোটের একটি অংশও যদি নিজের দিকে টানতে পারেন তবে আখেরে লাভবান হবে বিজেপি জোট। হায়দরাবাদি আসাদুদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তিহাদুল মুসলমিন (এমআইএম) চার জেলার ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করছে। এই ছ’টি আসনেই লোকসভা নির্বাচনের ভোটের হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন মহাজোটের প্রার্থীরা। এমনকী, কংগ্রেসের কিষাণগঞ্জের জেলা সভাপতি দল ছেড়ে এমআইএমে যোগ দিয়েছেন। আরারিয়ার আরজেডি সাংসদ তসলিমুদ্দিনও দলের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ। তাঁর সমর্থকদের বড় একটা অংশ ওই এলাকায় ওয়েইসির দলের হয়ে প্রচার করছেন।

অন্য দিকে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বহু আসনে এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতকে প্রাধান্য দেয়নি বিজেপি জোট। সেখানে বিজেপি খানিকটা পিছিয়ে পড়ছে। পাশাপাশি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে দলীয় টিকিট না পেয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ নেতারা নির্দল হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন। তাঁদেরও গল্প সেই ভোট কাটা ও যাত্রা ভঙ্গের।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement