নবাগতদের রাজনীতির পাঠ আর এক নবাগতের

লক্ষ্য সুদিন আনা। তাই ক্ষমতায় এসেই একাধিক সংস্কারমুখী পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে তাঁর সরকার। বাজেটও সামনে। সেখানেও কড়া দাওয়াই থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কেন এই কড়া দাওয়াই, নিজের নিজের কেন্দ্রের মানুষকে তা বোঝানোর দায়িত্ব নতুন সাংসদদের হাতেই তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দলের ১৬১ জন প্রথম বারের সাংসদকে নিয়ে হরিয়ানার সুরজকুণ্ডে আজই শুরু হল বিজেপির দু’দিনের কর্মশালা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০১৪ ০১:৪৯
Share:

লক্ষ্য সুদিন আনা। তাই ক্ষমতায় এসেই একাধিক সংস্কারমুখী পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে তাঁর সরকার। বাজেটও সামনে। সেখানেও কড়া দাওয়াই থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কেন এই কড়া দাওয়াই, নিজের নিজের কেন্দ্রের মানুষকে তা বোঝানোর দায়িত্ব নতুন সাংসদদের হাতেই তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দলের ১৬১ জন প্রথম বারের সাংসদকে নিয়ে হরিয়ানার সুরজকুণ্ডে আজই শুরু হল বিজেপির দু’দিনের কর্মশালা। সেখানেই নতুনদের সংসদীয় আচরণের পাঠ দিতে গিয়ে মোদী তাঁদের বিশেষ নজর দিতে বললেন তিন মন্ত্রে ‘আচার’, ‘বিচার’ ও ‘ব্যবহার’।

Advertisement

আজ কর্মশালার প্রথম বক্তাই ছিলেন মোদী। ঘটনাচক্রে যিনি নিজেও প্রথম বারের সাংসদ। আজ নবীনদের সংসদীয় রাজনীতির পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি সংসদের বাইরের পাঠও দেন তিনি। বোঝান কোথায় কোথায় সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। সেই প্রসঙ্গেই বলেন, সংবাদমাধ্যমের সামনে সাংসদেরা যেন আলপটকা মন্তব্য করে না বসেন। বরং তাঁরা প্রত্যেকে যেন নিজের নিজের এলাকার জন্য আগামী ছ’মাসের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেন। মোদীর বার্তা, “যেখানকার লোকেরা আপনাদের জিতিয়ে এনেছেন, তাঁদের জন্য কাজ করুন।”

আর এই জনসংযোগ বাড়ানোর মোড়কেই কেন্দ্রের বিভিন্ন কঠোর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিজের নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করার গুরুদায়িত্ব নবাগত সাংসদদের দিয়েছেন মোদী। বিজেপি নেতৃত্ব বারবারই বলেছেন, গত দশ বছরে দেশের অর্থনীতির ভিত দুর্বল করে দিয়েছে ইউপিএ সরকার। এই পরিস্থিতিতে ‘আচ্ছে দিন’ আনতে হলে প্রয়োজন আর্থিক উদারীকরণ, ভর্তুকি হ্রাসের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত। সেই পথে হেঁটেই রেলের যাত্রী ভাড়া ও পণ্য মাসুল বাড়িয়েছে কেন্দ্র। তা ছাড়া ডিজেলের দামও প্রতি মাসে পঞ্চাশ পয়সা করে বাড়ছে। ইতিমধ্যেই এ সব নিয়ে সরব বিরোধী দলগুলি। এমনকী নিত্যযাত্রীদের টিকিটে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন বিজেপি এবং শরিক শিবসেনার সাংসদদেরই একাংশ। অথচ কঠোর পদক্ষেপের তেমন সুফল এখনও চোখে পড়েনি। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিই যথেষ্ট চিন্তায় রেখেছে সরকারকে।

Advertisement

ফলে এক মাস পূর্ণ করে কিছুটা অস্বস্তিতে মোদী প্রশাসন। সুদিন কোথায় সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তা নিয়ে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদেরই জনতাকে বোঝাতে হবে যে, প্রথম থেকেই অর্থনীতির হাল শক্ত হাতে না ধরলে আগামী দিনে ইতিবাচক অভিমুখে হাঁটা অসম্ভব। মোদী নিজেও সম্প্রতি ব্লগে আর্জি জানিয়েছেন যে, দেশবাসী যেন তাঁর উপরে আস্থা রাখেন। সময় লাগবে, কিন্তু পট পরিবর্তন হবেই।

ঘটনাচক্রে, ‘পরিবর্তন’ নিয়েও আজ নবাগতদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মোদী। বলেছেন, ক্ষমতায়ন মানেই বিরোধী আসন থেকে সরকার পক্ষে এসে বসা নয়। এটি একটি উল্লেখজনক পরিবর্তন। যেখানে সমস্ত সাংসদকে প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে একসঙ্গে একটি লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়। কাজেই দরকার মানসিকতার পরিবর্তন। পারস্পরিক দোষারোপ, বিরোধীদের দিকে আঙুল তোলার চেয়ে সাংসদদের নিজেদের কাজে মন দিতে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে বিতর্কের জন্য নিজেদের তৈরি রাখতে বলেন। সেই সঙ্গে সতর্ক করে দেন, যেন সাংসদেরা কোনও প্রলোভন বা ফাঁদে পা না বাড়ান। মোদীর কথায়, “দলের কাছে দেশবাসীর প্রচুর প্রত্যাশা। মানুষ সাংসদের কাজের উপর নজর রাখছে। তাই সমস্ত ধরনের দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে।”

লোকসভা নির্বাচনে সাফল্যের পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলিতেও ভাল ফল করতে মরিয়া বিজেপি। চলতি বছরেই হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে নির্বাচন রয়েছে। ওই দুই রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। দল যে এখন ওই দুই রাজ্যেও ক্ষমতা দখলে তৎপর হবে, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদী নিজেই। তাঁর কথায়, “আমরা কেন্দ্রকে যে ভাবে প্রায় কংগ্রেস-মুক্ত করেছি, এ বার বিধানসভা নির্বাচনেও আবার সেই কাজটি করতে হবে।”

যদিও আজ ‘শিক্ষক’ মোদীর ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য শাকিল আহমেদ। তাঁর কথায়,

‘‘যিনি নিজেই প্রথম সাংসদ হয়েছেন, তিনিই সংসদের রীতিনীতি নিয়ে দলের প্রথম বারের সাংসদদের পাঠ পড়াচ্ছেন। বিষয়টি হাস্যকর নয় কি?” মোদী অবশ্য ব্লগে আগেই বুঝিয়েছিলেন যে, তাঁকে আনকোরা ভাবার কারণ নেই। চার বার মুখ্যমন্ত্রী থাকার অভিজ্ঞতা ও সতীর্থদের সহযোগিতায় এখন তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে। তবে আজ কর্মশালায় নিজের বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “আমিও নতুন সাংসদ। প্রথম বার জিতে এসেছি। অভিজ্ঞ যাঁরা আছেন, তাঁদের কাছ থেকে আমাকেও শিখতে হবে।” তবে নবীনদের জন্য তাঁর দরজা খোলা। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, “যে কোনও দরকারে আমার কাছে বা সভাপতি রাজনাথ সিংহের কাছে আসবেন।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement