বনভোজনে গিয়ে জলে ডুবে মারা গেল দুই কিশোর। গুয়াহাটির সাতগাঁওয়ের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, গত কাল সকালে সাতগাঁও সেনা ছাউনির বাসিন্দা জওয়ান তিলক সিংহের ছেলে নন্দেশ্বর সিংহ ও তার বন্ধু প্রাক্তন সেনাকর্মীর ছেলে জ্যোতিষ্মান দাস গুরুদ্বারে যাওয়ার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরোয়। নন্দেশ্বর ও জ্যোতিষ্মান সেনা পাবলিক স্কুলের নবম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বেলা ২টো অবধি নন্দেশ্বর ও জ্যোতিষ্মান বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকালে পুলিশ তাঁদের জানায়, আমসাং অভয়ারণ্যের ভিতরে পাহাড়ের উপরে থাকা একটি পুকুর থেকে দুই ছাত্রের দেহ মিলেছে। সেনা ছাউনি থেকে পাঁচ কিলোমিটার পাহাড় চড়ার পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুলিশ সেই পুকুরের কাছে পৌঁছায়। পরিবারের সদস্যরা নন্দেশ্বর ও জ্যোতিষ্মানের দেহ শণাক্ত করার পরে দেহ দুটি থানায় নিয়ে আসা হয়। আজ বিকেলে ময়না তদন্তের পরে দেহ পরিবারকে দেওয়া হয়েছে।
দুই পরিবারের অভিযোগ, নন্দেশ্বর ও জ্যোতিষ্মানকে হত্যা করা হয়েছে। যে বন্ধুদের সঙ্গে নন্দেশ্বর ও জ্যোতিষ্মান ওই জঙ্গলে গিয়েছিল— তারা ঘটনার পরেও পরিবারকে কিছু জানায়নি। নন্দেশ্বর ও জ্যোতিষ্মানের আত্মীয়েরা ওই ছাত্রদের আটক করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পরে আজ জানায়, জলে ডুবেই দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে অন্য আঘাতের চিহ্ন ছিল না। দু’জনের সঙ্গে থাকা অন্য আট ছাত্রকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, গত কাল গুরুদ্বারের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে সকলে মিলে বাজার থেকে মাংস কেনে। এর পর পাহাড়ের দুর্গম স্থানে থাকা ওই পুকুরের পাড়ে বনভোজনে যায় তারা। যে রাস্তা ধরে তারা পাহাড়ে উঠেছিল— তা হাতি চলাচলের রাস্তা। পুকুলে স্নান করতে নেমে জলে ডুবে দু’জনের মৃত্যু হয়।