জনাদেশ ’১৪

প্রাক্তনীদের পথে হেঁটে কি জ্যোতিষে মজবেন মোদী, প্রশ্ন দলের অন্দরেই

উৎকণ্ঠা শেষ। এ বার প্রস্তুতি। জল্পনা, কবে এবং কখন শপথ নিতে দরবার হলে পা রাখবেন তিনি! তিনি, নরেন্দ্র মোদী দিনক্ষণ যবেই স্থির করুন না কেন, ইতিমধ্যেই নেমে পড়েছেন জ্যোতিষী কূল। গোটা দেশ থেকে আসতে শুরু করেছে মুহুর্মুহু পরামর্শ। প্রত্যেকেরই দাবি, আমার পরামর্শ মেনে শপথের দিনক্ষণ ঠিক করুন। তা হলেই কেল্লা ফতে।

Advertisement

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০১৪ ০৩:২৯
Share:

উৎকণ্ঠা শেষ। এ বার প্রস্তুতি। জল্পনা, কবে এবং কখন শপথ নিতে দরবার হলে পা রাখবেন তিনি!

Advertisement

তিনি, নরেন্দ্র মোদী দিনক্ষণ যবেই স্থির করুন না কেন, ইতিমধ্যেই নেমে পড়েছেন জ্যোতিষী কূল। গোটা দেশ থেকে আসতে শুরু করেছে মুহুর্মুহু পরামর্শ। প্রত্যেকেরই দাবি, আমার পরামর্শ মেনে শপথের দিনক্ষণ ঠিক করুন। তা হলেই কেল্লা ফতে। বিশ্ব দরবারে পুনরুদ্ধার হবে ভারতের হৃত গৌরবের। কিন্তু হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী বিজেপি নেতৃত্বের বড় অংশের জ্যোতিষী নির্ভরতা সুবিদিত হলেও, প্রশ্ন হল জ্যোতিষীদের দেওয়া পরামর্শ কি মেনে নেবেন মোদী?

বিজেপি নেতারা মেনে নিচ্ছেন, দলের একটা বড় অংশ জ্যোতিষী নির্ভর। যেমন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্যোতিষের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতেন তিনি। চিত্তরঞ্জন পার্কের বাসিন্দা জ্যোতিষী গীতা সেনের কাছে নিয়মিত যেতেন বাজপেয়ীর পালিত কন্যা নমিতা ও জামাই রঞ্জন। নিয়মিত বাজপেয়ীর ছক ও ভাগ্যগণনা করতেন এই জ্যোতিষী।

Advertisement

আর কর্নাটকের আর এক বিজেপি নেতা ইয়েদুরাপ্পা প্রসঙ্গে তো বলা হয়ে থাকে, তিনি প্রতি পদে জ্যোতিষীর পরামর্শ নিয়ে চলেন। দলের অন্য শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রাজনাথ সিংহ বা অনন্তকুমারদের জ্যোতিষ-নির্ভরতা রয়েছে পূর্ণমাত্রায়। রাজনাথের ছায়াসঙ্গী সুধাংশু ত্রিবেদী আবার শখের জ্যোতিষী। রাজনাথ ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, সুধাংশুর কথা না শুনে এক পা-ও চলেন না রাজনাথ। আর মোদীর স্ত্রী? যশোদাবেনেরও নাকি জ্যোতিষে অগাধ বিশ্বাস। স্বামী যাতে প্রধানমন্ত্রী হন, তার জন্য এ বার জ্যোতিষীদের পরামর্শ মেনেই একটি বিশেষ সময়ে ভোট দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু মোদী? ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, বিজেপির বেশির ভাগ নেতাদের জ্যোতিষ-নির্ভরতা থেকে কিছুটা দূরে থাকতেই পছন্দ করেন দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী। জ্যোতিষ নয়, মোদী বিশ্বাস রাখেন নিজের বুদ্ধি-বিবেচনার উপরেই। বডোদরা বা বারাণসীতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে বহু জ্যোতিষী পরামর্শ দেন মোদীকে। কিন্তু সে সব তোয়াক্কাই করেননি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন, তিনি এ সব মানেন না। পণ্ডিতদের পরামর্শ উড়িয়ে নিজের সুবিধে মতো দু’টি কেন্দ্রেই মনোনয়ন জমা দেন তিনি। আগামী সপ্তাহে শপথের সময়ে কি সেই একই ছবি দেখা যাবে?

এর উত্তর পেতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু একদা বাজপেয়ী-ঘনিষ্ঠ, আয়কর দফতরের এক কর্তা শঙ্করচরণ ত্রিপাঠীর মতে, মোদী-জমানার সাফল্য নির্ভর করছে শপথগ্রহণের সময়ের উপর। সঠিক সময়ে শপথ নিলেই সরকারের সাফল্য অবধারিত। ত্রিপাঠীর সুপারিশ, “২২ মে, ১১টা ৩৩ মিনিটে শপথ নিন মোদী।” জ্যোতিষ চর্চার অন্যতম কেন্দ্র কাশীর জ্যোতিষী আচার্য কামেশ্বর উপাধ্যায়েরও বক্তব্য, “মোদীর রাজযোগ রয়েছে। কিন্তু তাঁর কুণ্ডলিতে কিছু বাধাবিপত্তি রয়েছে। সাফল্য পেতে গেলে সেই কু-গ্রহের জন্য কিছু প্রতিকার নিতে হবে মোদীকে। সবার আগে জ্যোতিষ প্রশ্নে তাঁর যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে, তা কাটাতে হবে।” কিন্তু এই পরামর্শ কি আদৌও মানবেন মোদী? সংশয়ে বিজেপি নেতারাই। দলের একাংশের বক্তব্য, ২১ মে শপথ নিতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন মোদী। যদিও ওই দিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর মৃত্যুদিন। বিজেপির বড় অংশের মতে, ২২ মে শুভদিন। সে দিন শপথ নেওয়াই ভাল।

বিজেপির বড় অংশ ২২ মে-র পক্ষে সওয়াল করলেও দল জানে, গোটা বিষয়টিই এখন নির্ভর করছে মোদীর উপর। এত দিন পুরুষকারেই বিশ্বাস রেখে সাফল্যের চুড়োয় উঠেছেন মোদী। ভবিষ্যতে দেশ চালাতে গিয়ে জ্যোতিষে আত্মসমর্পণ করবেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement