বাবার আসনে লড়তে তৈরি মেহনাজ

বাবা সহিদুল আলম চৌধুরী ছিলেন দু’বারের মন্ত্রী, পাঁচবারের বিধায়ক। অসম গণ পরিষদের ওই দুঁদে নেতার হাত ধরেই ১৯৮৯ সালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়েছিল হাইলাকান্দি। কিন্তু সহিদুলবাবুর অকালমৃত্যুতে দুর্বল হয়ে পড়া অসম গণ পরিষদের হাল কে ধরবেন?

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:৪৬
Share:

মেহনাজ সইদ চৌধুরী

বাবা সহিদুল আলম চৌধুরী ছিলেন দু’বারের মন্ত্রী, পাঁচবারের বিধায়ক। অসম গণ পরিষদের ওই দুঁদে নেতার হাত ধরেই ১৯৮৯ সালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়েছিল হাইলাকান্দি। কিন্তু সহিদুলবাবুর অকালমৃত্যুতে দুর্বল হয়ে পড়া অসম গণ পরিষদের হাল কে ধরবেন? মেয়ে মেহনাজ আপাতত জেলা পরিষদে অগপ সদস্য হিসেবে থাকলেও নির্বাচনে তিনি কোন দলের টিকিটে লড়বেন— তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে, পাল্লা ভারি এআইইউ়ডিএফের দিকেই। বর্তমানে গোটা বরাক উপত্যাকাতেই অগপর প্রভাব ক্ষীণ। সহিদুলকন্যা মেহনাজ সইদ চৌধুরী এখন আলগাপুর জেলা পরিষদ সমষ্টিতে অগপ সদস্য হিসেবেই আছেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি যে আলগাপুর থেকে লড়তে নামবেন— তা মোটামুটি নিশ্চিত। মেহনাজ জনসংযোগের কাজও চালাচ্ছেন জোরকদমে। কিন্তু বাবার দল থেকেই লড়বেন না দলবদল করবেন মেহনাজ— তা নিয়ে এখনও তিনি কিছুই খোলসা করেননি।

Advertisement

সহিদুলবাবু মারা যাওয়ার পরে উপ নির্বাচনে আলাদা করে প্রার্থী না দিয়ে অগপ এআইইউডিএফ প্রার্থী মেহবুবুল আলমকেই সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রী গৌতম রায়ের স্ত্রী মন্দিরা রায়ের কাছে হেরে যান আলম। তাই অগপর আসন চলে যায় কংগ্রেসের দখলে। সহিদুলের আসনে এ বার প্রার্থী কে হবেন— তা নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। কিন্তু মেহনাজ আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেন, ‘‘বাবার উত্তরসূরী হিসেবে আমিই এই আসনে লড়ব। জনগণের আশীর্বাদ আমার সঙ্গেই থাকবে।’’ তিনি কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন বলে জানালেও কোন দলের হয়ে লড়বেন— তা বলেননি।

গত সপ্তাহে মেহনাজের সঙ্গে বৈঠক করেন এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল। সেই বৈঠকের সময়ই সার্কিট হাউসে বিক্ষোভ হয়। আজমলকে জুতো দেখানো হয়েছিল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেহনাজের এআইইউডিএফ থেকে লড়া প্রায় নিশ্চিত। আলগাপুরের বিধানসভা ভিত্তিক সমন্বয় কমিটি অবশ্য সাফ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়, সুশিক্ষিত, যোগ্য কোনও ভূমিপুত্রকেই প্রার্থী করার পক্ষে। বহিরাগত প্রার্থী মেনে নেওয়া হবে না। এখানকার রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, আজমল অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীর মনোয়ন দিতে চলেছেন। কিন্তু আজমল সব অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচনের দেরি আছে। সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী ঠিক করা হবে।’’ এ দিকে, এই কেন্দ্রে বর্তমানে বিধায়ক থাকা মন্দিরাদেবীকেও সম্ভবত পরের বার প্রার্থী করবে না কংগ্রেস। এ ক্ষেত্রে দলের রাজনীতির চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে রায় পরিবারের ভিতরের রাজনীতি। তাই মেহনাজ ভোটে দাঁড়ালে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চলেছেন গৌতম-মন্দিরার পুত্র প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement